
নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নড়াইলের লোহাগড়ায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার প্রস্তুতি শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ বছর উপজেলার ১৪৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। উৎসব চলাকালে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মুস্তাফিজুর রহমান। সভায় নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান বাচ্চুর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নড়াইল জেলা কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা আলমগীর হোসাইন।
সভায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা এবং পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা অংশ নেন। তাঁরা পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিএ মো. শরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক সেবক মণ্ডল, লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আহাদুজ্জামান বাটু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মিলু শরিফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মশিয়ার রহমান সান্টু, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোল্যা নজরুল ইসলাম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এস এ সাইফুল্লাহ মামুন।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের লোহাগড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গৌতম দেওয়ান, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের লোহাগড়া পৌর শাখার সভাপতি গৌতম সাহা, কিশোর রায়, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আরিফা খাতুন এবং লোহাগড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. সোহাগুজ্জামান। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ইউএনও এস এম মুস্তাফিজুর রহমান।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী লোহাগড়া উপজেলা শাখার জয়েন্ট সেক্রেটারি হাফেজ ইমরান হোসেন, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আলী আকবর, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন এবং বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের উপজেলা শাখার সভাপতি শংকর অধিকারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
উপজেলা প্রশাসনের এ সভায় পূজার দিনগুলোতে মণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। উৎসব চলাকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি এবং স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।