
মনির খান, লোহাগড়া প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানবিক সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল হাসনাত। তিনি নিয়মিত ওয়ার্ড পরিদর্শন, রোগীদের খোঁজখবর এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে স্থানীয় রোগীদের মধ্যে ‘মানবিক ডাক্তার’ খ্যাতি অর্জন করেছেন।
রোগীরা জানান, “ডা. আবুল হাসনাতের মতো ডাক্তার পাওয়া আমাদের জন্য আশীর্বাদ। তিনি রোগীদের খোঁজখবর নেন, কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করেন। তার সেবায় আমরা অত্যন্ত খুশি।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সারাদেশব্যাপী সেবা মানের জরিপে ৫০০ হাসপাতালের মধ্যে লোহাগড়া হাসপাতাল ৩০তম স্থানে রয়েছে। যদিও হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা মাত্র ৫০, সেখানে প্রতিদিন ৮০–৯০ জন রোগী ভর্তি হন। বর্তমানে জনবলও যথেষ্ট নয়—৩৪ জন ডাক্তারের স্থলে আছেন ১১ জন, ৩৪ নার্সের স্থলে ২১ জন, ১৪ স্যাকমোরের স্থলে ৪ জন, এবং আউটসোর্সিংয়ের ১৫ জন কর্মচারীর দুই বছরের বেতন বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া ডেঙ্গু চিকিৎসায় হাসপাতালটি নজির স্থাপন করেছে। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও আরএমও ডা. সুরেশ কুমার নন্দী অধিকাংশ রোগীকে বাইরে রেফার না করে নিজ দায়িত্বে সুস্থ করেছেন। প্যাথলজি বিভাগে রাজস্বও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা আগে মাসে ৩০–৩৫ হাজার টাকা ছিল, এখন ১ লাখ ৩০–৪০ হাজার টাকা।
ডা. সুরেশ কুমার নন্দী বলেন, “জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও দেশের সেবা মানের তালিকায় ৩০তম অবস্থান আমাদের জন্য বড় অর্জন। সেবার মান আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবুল হাসনাত বলেন, “মানুষের সেবা করাই আমার দায়িত্ব। জনবল বাড়ালে লোহাগড়ার চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। আমরা আগামী বছরে সেবা মান ১ থেকে ১০-এর মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্য রাখছি। এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
নেটিজেনরা মনে করেন, যদি হাসপাতালের প্রয়োজনীয় ৬০ শতাংশ জনবল পূরণ করা যেত, তবে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহজেই দেশের সেরা ১০ হাসপাতালে স্থান পেত। লোহাগড়াবাসী ডা. আবুল হাসনাত ও সহকর্মীদের মানবিক সেবার মাধ্যমে চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন আশা ও আস্থা পেয়েছেন।