
নির খান, স্টাফ রিপোর্টার
শারীরিক ব্যায়াম বা শরীরচর্চা মানব জীবনে এক অপরিহার্য উপাদান। এটি শুধু শরীরের সুস্থতা নয়, বরং মানসিক প্রশান্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির একমাত্র সহজ ও স্বাভাবিক পদ্ধতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে শুরু করে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বারবার শারীরিক ব্যায়ামের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে আসছেন।
শারীরিক ব্যায়াম কী?
শারীরিক ব্যায়াম বা শরীরচর্চা বলতে বোঝায়—এমন শারীরিক কর্মকাণ্ড, যা দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সচল রাখে এবং মাংসপেশিকে শক্তিশালী করে।
শরীরচর্চার মাধ্যমে ক্রীড়া দক্ষতা বৃদ্ধি, শারীরিক ওজন নিয়ন্ত্রণ, সুগঠিত শরীর, মানসিক প্রশান্তি এবং দীর্ঘায়ু লাভ করা যায়। ব্যায়ামের ফলে দেহের সংবহন তন্ত্র, শ্বাসতন্ত্র, হজমতন্ত্রসহ সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সক্রিয় থাকে।
ব্যায়ামের উপকারিতা :১. হৃদরোগ প্রতিরোধ করে, ২. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, ৩. উচ্চ রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে ৪. স্থূলতা ও অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে ৫. পেশী ও হাড় শক্তিশালী করে, ৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ৭. মানসিক চাপ, হতাশা ও দুশ্চিন্তা কমায়, ৮. স্মৃতিশক্তি উন্নত করে, ৯. যৌন স্বাস্থ্য উন্নত করে, ১০. ঘুমের গুণগত মান বৃদ্ধি করে।
শিশু-কিশোরদের জন্য ব্যায়ামের গুরুত্ব :
বর্তমানে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা একটি বড় সমস্যা। কম খেলা-ধুলা, মোবাইল-গেম ও ইন্টারনেটে আসক্তির কারণে শিশুরা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা শিশুর সুস্থ বিকাশে সহায়ক।
কাদের জন্য কতটুকু ব্যায়াম দরকার?
বিশেষজ্ঞদের মতে—
শিশুরা: প্রতিদিন ১ ঘন্টা খেলাধুলা বা ব্যায়াম।
প্রাপ্তবয়স্করা: সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন, দিনে ৩০ মিনিট হাঁটা বা শরীরচর্চা।
বৃদ্ধরা: বয়স অনুযায়ী হালকা ব্যায়াম বা হাঁটা।
চিকিৎসা বিজ্ঞান কী বলছে?
বিশ্বের অনেক স্বাস্থ্যগবেষক শারীরিক ব্যায়ামকে ‘অলৌকিক ঔষধ’ আখ্যা দিয়েছেন। কারণ, ওষুধের ব্যয়, পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া বা নির্ভরশীলতা ছাড়াই শরীরকে সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে শরীরচর্চা।
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, শরীরচর্চা বা ব্যায়াম শুধু শখ বা অভ্যাস নয়, এটি সুস্থ, সুন্দর ও দীর্ঘজীবনের নিশ্চয়তা। শরীর ও মনের যত্ন নিতে চাইলে নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। তাই, আসুন আমরা সবাই নিয়মিত ব্যায়াম করি, সুস্থ থাকি, সুন্দর জীবন গড়ে তুলি।