
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে শনিবার (২৯ মার্চ) রাত ১:১৫ মিনিটে সোনাডাঙ্গা থানার বানরগাতি আরামবাগ এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানের সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় তিন ঘণ্টার গোলাগুলির পর সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র, গোলাবারুদসহ ৭টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো—পলাশ শেখ (৩৮), নুরে আলম সিদ্দিকী ওরফে লিয়ন শরীফ (২৯), রুবেল ইসলাম লাভলু ওরফে কালা লাভলু (৩৫), ইমরান হোসেন ওরফে ট্যাটু ইমরান (৩৫), সৈকত রহমান (২৭), ফজলে রাব্বি রাজন (৩৬), রিপন (৩০), গোলাম রব্বানী (২৬), ইমরানুজ্জামান (৩৩) ও শহিদুল (৩৫)।
তাদের হেফাজত থেকে ৩টি পিস্তল, ৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১টি শটগান, ২৩ রাউন্ড শটগানের গুলি, ২টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি চাপাতি, ১টি হাসুয়া, ২টি চাকু, ৪টি মোবাইল ফোন এবং ৭টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে ৭ জন পুলিশ সদস্য ও ১ জন নৌবাহিনীর সদস্য আহত হন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
থানার রেকর্ডপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, পলাশের বিরুদ্ধে ১৪টি, রুবেল ইসলাম লাভলুর বিরুদ্ধে ৬টি, নুরে আলম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ২টি, ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে ১টি, ফজলে রাব্বি রাজনের বিরুদ্ধে ১টি, রিপনের বিরুদ্ধে ১টি এবং ইমরানুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১টি মামলা রয়েছে।
ঘটনার সময় সন্ত্রাসীদের কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আহত হন। তাদেরও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।