
মোঃ ফয়সাল হোসেন, কয়রা প্রতিনিধি
খুলনার খুমেক হাসপাতালে উপপরিচালক হিসেবে বদলি হওয়া ডাঃ সুজাত আহমেদ দাবি করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আসছেন এবং এখনও তার যোগদানে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
এক সাক্ষাৎকারে ডাঃ সুজাত জানান, “আওয়ামী লীগের শাসনামলে আমি যখন খুলনার সিভিল সার্জন ছিলাম, তখন শেখ পরিবারের পক্ষ থেকে কিছু লোককে নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরি দিতে বলা হয়। আমি তাতে রাজি না হওয়ায় রোষানলে পড়ি এবং আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে পাঁচজনের সঙ্গে আমাকে আসামি করা হয়। অথচ সেই মামলার অন্য আসামিরা এখন ভালো অবস্থানে আছেন।”

তিনি বলেন, “তৎকালীন সরকার আমাকে তিন বছর ধরে ওএসডি করে রাখে। বর্তমান সরকার ওএসডি প্রত্যাহার করে খুমেক হাসপাতালে উপপরিচালক পদে বদলি করলেও, কিছু প্রভাবশালী ডাক্তার এতে বাধা সৃষ্টি করছেন। পোস্টার, ব্যানার ও মিছিল করে তারা আমার বদলির বিরোধিতা করছেন। অথচ এই ব্যক্তিরাই আওয়ামী লীগের সময়ে সর্বোচ্চ সুবিধা নিয়েছেন এবং পদোন্নতি পেয়েছেন।”
ডাঃ সুজাত দাবি করেন, “যখন উপপরিচালক হিসেবে বদলির আদেশ হয়, তখনই ওই পক্ষের মাথা খারাপ হয়ে যায়। তারা এখন ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। যদি দোসর হতাম, তাহলে তাদের আমলে আমার নামে মামলা ও তিন বছরের ওএসডি হতো না।”
সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবার বিষয়েও তার মানবিক ভূমিকার কথা উঠে আসে। তার চেম্বারে চিকিৎসা নিতে আসা এক গরিব রোগী খাদিজা বেগম মাত্র ৫০ টাকা পরামর্শ ফি দিয়ে চিকিৎসা পেয়েছেন, যা হাসিমুখে গ্রহণ করেন ডাঃ সুজাত।
স্থানীয়দের দাবি, কয়রার অবহেলিত ও নিম্নআয়ের মানুষদের নিয়মিত সেবা দিয়ে আসছেন এই চিকিৎসক। তারা বলেন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র না করে এলাকার মানুষের স্বার্থে তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া উচিত।