
বরিশাল, ১১ এপ্রিল ২০২৬ (শনিবার): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে এবার মাঠের রাজনীতিতে আলোচনায় এসেছে সংরক্ষিত নারী আসন। বিএনপি সরকার গঠন করলে সংরক্ষিত নারী আসনে কাদের মূল্যায়ন করা হবে—এ নিয়ে বরিশাল বিভাগজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও দৌঁড়ঝাঁপ।
দলীয় হিসাব অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে বিএনপি বিজয়ী হলে নিয়মানুযায়ী প্রতি ৬টি আসনের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সীমিত আসনগুলো পেতে এখন মাঠে নেমেছেন অন্তত ৩৫ জন নারী নেত্রী।
বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন বলেন, তিনি ৯ বার জেল খেটেছেন, ৫৫টি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন এবং প্রায় সাড়ে ৪ বছর কারাবরণ করেছেন। বরিশালসহ সারা দেশে তার মতো নারী রাজপথে সক্রিয়ভাবে আন্দোলন করেছেন কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ত্যাগের মূল্যায়ন হলে তিনি আশাবাদী।
মহানগর মহিলা দলের সভাপতি ফারহানা আলম তিথি বলেন, দলের দুর্দিনে সারাক্ষণ মাঠে ছিলেন। বিএনপির মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণের কারণে কলেজের চাকরিতে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। বরিশাল সদর আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের পক্ষে দিনরাত কাজ করে বিজয় নিশ্চিত করতে ভূমিকা রেখেছেন বলেও তিনি দাবি করেন। ত্যাগের মূল্যায়ন হলে তিনি আশাবাদী।
ঝালকাঠি জেলা থেকে প্রার্থী হিসেবে আছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জিবা আমিনা আল গাজী। তিনি বলেন, তিনি দলের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করছেন এবং দল যেভাবে কাজে লাগাবে সেভাবেই কাজ করবেন। ঝালকাঠি থেকে আরও রয়েছেন জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফাতেমা রহমান ও অন্যান্য নারী নেত্রীরা, যারা সংরক্ষিত আসনের প্রত্যাশী।
ভোলা জেলা থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমের বোন খালেদা খানম, জেলা মহিলা দল নেত্রী সাজেদা বেগম, বোরহানউদ্দিন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান বনি এবং আইনজীবী নূরজাহান বেগম বিউটি।
খালেদা খানম বলেন, তিনি দলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করেছেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। ত্যাগের মূল্যায়ন দল করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বরগুনা জেলায় সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক নূর শাহানা হক, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের স্ব-নির্ভরবিষয়ক সহ-সম্পাদক আসমা আজিজ, বিএনপি নেত্রী ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট রঞ্জুয়ারা শিপু, অ্যাডভোকেট মেহবুবা আক্তার জুঁই, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী শারমিন সুলতানা আসমা, বিএনপি নেত্রী নাজমুন নাহার পাপড়ি, অ্যাডভোকেট মারজিয়া হিরা এবং মীরা খান।
আসমা আজিজ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। বরিশাল বিভাগীয় মহিলা দলের দায়িত্ব পালন করেছেন। বরগুনা-১ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন এবং আন্দোলনে একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
পিরোজপুর জেলা থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এলিজা জামান, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রহিমা আক্তার হাসি এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি সুলতানা জেসমিন জুঁই।
এলিজা জামান বলেন, তিনি একাধিক মামলার আসামি ছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাবরণ করেছেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ত্যাগের মূল্যায়ন আশা করেন তিনি।
পটুয়াখালী জেলায় সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হতে চান সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদারের স্ত্রী সালমা আলম লিলি, জেলা মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা বেগম সীমা, সাধারণ সম্পাদক ফারজানা রুমা, জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি লায়লা ইয়াসমিন এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য সাজিয়া মাহমুদ লিনা।
ফারজানা রুমা বলেন, তিনি ৩টি মামলায় ২২ দিন কারাবরণ করেছেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রভাগে ছিলেন। ত্যাগের মূল্যায়ন হলে তিনি শতভাগ আশাবাদী।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তৃণমূল নেতাদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বরিশাল বিভাগে এখন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ের নেত্রীদের মূল্যায়নের দাবি জোরালো হলেও মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা আরও বাড়ছে।
এর বাইরেও বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলা মিলিয়ে আরও অন্তত ১৫ জন নারী নেত্রী সংরক্ষিত আসনের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটাই প্রশ্ন—দলীয় মূল্যায়নের এই দৌঁড়ে শেষ পর্যন্ত কারা পাবেন সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন।
NGS/MMH