
ঝিনাইদহ: এক মুহূর্তে বদলে গেল এক পরিবার ও সমাজের স্বপ্ন। ২৩ বছর বয়সী কলেজছাত্রী সুমাইয়া সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছিলেন, সেই সময় ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে তার জীবনশেষ হয়ে যায়।
ঝিনাইদহ সরকারি কেশবচন্দ্র কলেজের গণিত বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া হরিণাকুন্ডু উপজেলার জোড়াপুকুরিয়া গ্রামের সেলিম রেজার স্ত্রী। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সড়কের বুড়াই এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার একটি পার্ক থেকে ভ্রমণ শেষে ইজিবাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন সুমাইয়া। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় অসাবধানতাবশত ওড়না চাকার সাথে পেঁচিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে যান। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তাপস কুমার জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সুমাইয়ার মৃত্যু হয়। ওড়নায় ফাঁস লেগে শ্বাসরোধ হওয়াই মৃত্যুর মূল কারণ। স্ত্রীকে হারিয়ে স্তব্ধ ও কান্নাভেজা স্বামী সেলিম রেজা বলেন, “আমার জীবন এখন তছনছ। সন্তানের দুধ খাওয়ানোর মুহূর্তেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল।”
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি সামসুল আরেফিন জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইজিবাইক বা মোটরসাইকেলে চলার সময় ওড়না বা শাড়ির আঁচল নিয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।