
আজকের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমচর্চায় “সেরা” নির্ধারণের প্রধান মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে ভিউ, লাইক ও কমেন্টের সংখ্যা। কোনো গান, নাটক, ভিডিও বা প্রতিবেদন কত কোটি বার দেখা হয়েছে—এটাই এখন মূল্যায়নের কেন্দ্রবিন্দু। এর ভেতরে কী বার্তা আছে, তা সমাজের জন্য কতটা প্রয়োজনীয়, শিক্ষণীয় বা মানসম্মত—সেসব বিবেচনা ধীরে ধীরে পেছনে পড়ে যাচ্ছে।
এই প্রবণতা গণমাধ্যমকে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতায় ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় চোখে পড়া, ভাইরাল হওয়া এবং অল্প সময়ে বেশি দর্শক টানা। অথচ গণমাধ্যমের আসল শক্তি ও মর্যাদা নিহিত রয়েছে মান, বস্তুগত সত্য, সৃজনশীলতা এবং সমাজের রুচি নির্মাণে দায়িত্বশীল অবদান—এই চার স্তম্ভের ওপর।
সামাজিক দায়িত্ব ভুলে গিয়ে গণমাধ্যম যদি শুধু ভিউ-নির্ভর দৌড়ে নাম লেখায়, তবে শিল্প, সংস্কৃতি, সাহিত্য, নাটক, সংগীত, এমনকি সংবাদও ধীরে ধীরে বাণিজ্যিকতার কাছে পরাজিত হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সৃজনশীল মানুষ, নতুন প্রজন্মের রুচি এবং গণমাধ্যমের প্রতি আস্থা।
তাই এখনই জরুরি – গণমাধ্যমকে ভিউ ও জনপ্রিয়তার দাসত্ব থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, মানসম্মত ও চিন্তাশীল সৃষ্টি, সমাজ-উপযোগী বার্তা এবং নাগরিক রুচি গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা—এই দিকগুলোকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে।
গণমাধ্যমকে মনে রাখতে হবে, তাদের কার্যক্রমের উদ্দেশ্য শুধুই জনপ্রিয়তা নয়— জনকল্যাণ, সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা, সৃজনশীলতার অমরত্ব এবং মানুষের হৃদয় জয়।
NGS/MMH