
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে একাদশ শ্রেণির এক কলেজ ছাত্রীকে অপহরণের ১৯ দিন পর অবশেষে থানায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) আশাশুনি থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়, যেখানে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
অপহরণ ও টালবাহানার চক্র:
ভিকটিমের বাবা জানান, তার মেয়ে আশাশুনির দরগাহপুর কলেজিয়েট স্কুলের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। আসামি ফরিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্ত্যক্ত করছিল। বিষয়টি ফরিদুলের পরিবারকে জানানো হলে তারা উল্টো ক্ষুব্ধ হয়।
গত ৮ মার্চ সকালে ফরিদুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা মাইক্রোবাসে করে মেয়েটিকে মুখে রুমাল চেপে ধরে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন ধাওয়া করলেও তারা পালিয়ে যায়।
পরিবার প্রথমে ১২ মার্চ থানায় অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু আসামির পরিবার প্রভাব খাটিয়ে পুলিশকে টালবাহানায় রাখে এবং ভিকটিমকে উদ্ধারে গড়িমসি করতে থাকে। এরপর ১৬ মার্চ আবার থানায় এজাহার দেওয়া হয়, কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বিয়ে ও ধর্মান্তরের অভিযোগ:
ভিকটিমের বাবা অভিযোগ করেন, ফরিদুলের পরিবার তাকে ধর্মান্তরিত করে নাম পরিবর্তন করে বিয়ের নাটক সাজিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির ও ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টাও হয়েছে।
অবশেষে পুলিশ বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রেকর্ড করে এবং ভিকটিম উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। আশাশুনি থানার ওসি মো. নোমান হোসেন জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং ভিকটিমকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।