
শেখ ফসিয়ার রহমান নড়াইল প্রতিনিধি
তারিখ: ২ মে ২০২৫
নড়াইল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে বড় কালিয়া মৌজার সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগ এনে সরব হয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিহীনরা। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে থাকা সরকারি ইজারাকৃত জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে নেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে। প্রতিবাদস্বরূপ বড় কালিয়া লঞ্চঘাট সংলগ্ন উক্ত জমির ওপর দাঁড়িয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
জানা গেছে, কালিয়া পৌরসভার বড় কালিয়া মৌজার খতিয়ান নম্বর ১৫২৭ ও দাগ নম্বর ৫৬৪-এর জমি ভিপি তালিকাভুক্ত হিসেবে কালিয়া উপজেলা ভূমি অফিস থেকে নিয়ম মেনে ইজারা দেওয়া হয় শহীদ কাজী, রিনা বেগম, হেনা বেগম, চায়না বেগম, মিনা বেগম, সুমি বেগমসহ একাধিক ভূমিহীন পরিবারের নামে। তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও চাষাবাদ করে আসছিলেন।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য বি এম কবিরুল হক মুক্তির ব্যক্তিগত সহকারী হরি চক্রবর্তী, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা পার্থ চক্রবর্তী ও তার পিতা শেখর চক্রবর্তী স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল করে নেন। ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রভাবশালীদের ভয়ে এতদিন মুখ খুলতে সাহস পাননি তারা। অবশেষে ন্যায়বিচারের আশায় তারা রাজপথে নেমে আসেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,
“আমরা রাষ্ট্রীয় নিয়ম মেনে সরকারি জমি ইজারা নিয়েছি। এখন সেসব জমি জোর করে দখলে নিয়ে আমাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, যেন দ্রুত জমি আমাদের ফেরত দেওয়া হয় এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
এদিকে স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেছে, দখলদারদের মধ্যে শেখর চক্রবর্তী ও তার অনুসারীরা কালিয়া বিএডিসির একটি সম্পত্তিও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে সেখানে একটি মন্দির স্থাপন করেছেন। পরবর্তীতে সেই মন্দির দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দের টাকা এনে আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। এসব অর্থ স্থানীয় জনগণের কল্যাণে না গিয়ে চলে গেছে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর পকেটে।
ভুক্তভোগীরা এ ঘটনাকে ভূমিহীনদের সঙ্গে চরম অন্যায় হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “সরকার যেখানে ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চালাচ্ছে, সেখানে প্রভাবশালীরা প্রশাসনের নাকের ডগায় থেকে এই জমি লুটে নিচ্ছে।”
এলাকাবাসী ও ভূক্তভোগীরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।