
খুলনার দাকোপে উপজেলা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও খুলনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ননী গোপাল মন্ডল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান বিনয় কৃষ্ণ রায়সহ দলীয় ৪১ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপজেলার তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বটবুনিয়া গ্রাম এলাকার বাসিন্দা মতিয়ার রহমান সানার ছেলে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক আজমীর রহমান সানা বাদী হয়ে গত বুধবার (১৩ নভেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল দাকোপ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। এ সময় বাদীর পক্ষে আইনজীবী মাসুদ করিমসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতা-কর্মীরা দেশীয় তৈরি চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড ও লাঠি সোটা নিয়ে বিএনপি দলীয় বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর ওপর ফিল্মি স্টাইলে হামলা চালিয়ে তাদেরকে রক্তাক্ত ফোলা জখম করে। পরে তারা উপজেলা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরসহ কার্যালয়ের ভিতরে চেয়ার টেবিল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে রক্ষিত একটি আলমারী থেকে বিএনপি’র সদস্য সংগ্রহের টিকিট বিক্রির ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। কার্যালয়ের ভিতরে রক্ষিত শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের ছবি পা দিয়ে মাড়িয়ে ভাঙচুর করে ও মামলার বাদীসহ বিএনপি নেতা-কর্মীদের পিটিয়ে আহত করে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে দাকোপ থানা পুলিশকে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় অন্যান্য আসামিরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মিহির মন্ডল, সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান পঞ্চানন মন্ডল, আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন গাজী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জি এম কামরুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রনজিত কুমার মন্ডল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক জি এম রেজা,।
চালনা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সনত কুমার , উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসিত বরণ সাহা, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রতন কুমার মন্ডল, আরমান ফকির, উপজেলা যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম গাজী, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি গোবিন্দ বিশ্বাস , ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহন লাল সাহা, উপজেলা যুবলীগের নেতা গাজী সরোয়ার হোসেন, উপজেলা যুবলীগ নেতা জাহিদুর রহমান মিল্টন, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা কে এম কবীর হোসেন, আওয়ামী লীগ কর্মী আলতাফ ঢালী, পঙ্কজ কবিরাজ, তিলডাঙ্গা ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিত্য রঞ্জন কবিরাজ, নিমু কবিরাজ, প্রনব কবিরাজ, প্রসেনজিৎ কবিরাজ, নীল কোমল সরদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা খান, জেলা যুবলীগ নেতা আফজাল হোসেন খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য জয়ন্তী রানী সরদার, বাসু মিস্ত্রী, এনামুল গাজী, মোশারফ হোসেন খোকন, মুকুল রায়, অনিমল রায়, কৃষ্ণ রায়, চিন্ময় রায়, যুবলীগ নেতা নিহার সরদার, তন্ময় সরকার, চালনা পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ শফিকুল ইসলাম আক্কেল, আছাবুর ঢালীসহ এছাড়াও অজ্ঞাত নামা আরো ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।