
খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজানকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ফাঁসিয়েছিলেন একই দলের সভাপতি ও কেসিসির সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। তখন থেকেই মিজান দলের কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তালুকদার আবদুল খালেক নিজেই দুদকের বড় ধরনের তদন্তের মুখে পড়েছেন।
দুদকের তদন্ত
তালুকদার আবদুল খালেকের বিরুদ্ধে কেসিসি মেয়র থাকাকালে বেনামি ঠিকাদারি কাজের মাধ্যমে বিশাল অংকের দুর্নীতি করার অভিযোগ উঠেছে। দুদক ইতোমধ্যে তার সহযোগী তিন ঠিকাদারের আর্থিক লেনদেনের হিসাব সংগ্রহ শুরু করেছে। এ বিষয়ে কেসিসিকে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।
মিজান কারাগারে
এদিকে, দুদকের মামলায় জামিনে থাকা মিজানুর রহমান মিজান বৃহস্পতিবার ঢাকার আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। আগামী ৩০ জানুয়ারি এই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
খুলনার আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, মিজানুর রহমান মিজানের জনপ্রিয়তা নষ্ট করার ষড়যন্ত্রের পেছনে মূল মস্তিষ্ক ছিলেন তালুকদার আবদুল খালেক। তারাই দাবি করছেন, মিজানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও তাকে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে খালেক তার নিজস্ব আধিপত্য বজায় রাখতে চেয়েছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়ে নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাদের পোস্ট ও মন্তব্যে উঠে আসছে, মিজানকে ফাঁসানোর ঘটনায় দলীয় ঐক্য নষ্ট হয়েছে এবং খুলনায় আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে।
তৃণমূলে আলোচনা
মিজানের জনপ্রিয়তা নষ্ট করার জন্যই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন অনেকে। মিজানের প্রতি দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এখনো সহমর্মী। তারা মনে করেন, তালুকদার আবদুল খালেকের মুখোশ খুলে যাওয়ায় এই ষড়যন্ত্রের সত্যতা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।