
নিজস্ব প্রতিবেদক
সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে এসআরবি-৬-এর অভিযানের ধারাবাহিকতায় আলিফ বাহিনীর ১৫ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সুন্দরবনে সক্রিয় এই বাহিনীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের আটজন ও মজিদ গ্রুপের সাতজনসহ মোট ১৫ জন জলদস্যু এসআরবি-৬-এর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বননির্ভর মানুষের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষায় এ ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন বাংলাদেশের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। এই বনের ওপর নির্ভর করে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ হাজার হাজার মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বনজীবী ও স্থানীয় মানুষের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধের কারণে বনজীবীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি তাঁদের স্বাভাবিকভাবে জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এসআরবি-৬-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের ফলে এর আগে সুন্দরবনের বিভিন্ন জলদস্যু বাহিনীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন দস্যুচক্রের তৎপরতা এবং পূর্বে আত্মসমর্পণকারী কয়েকজনের পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক তৎপরতার ঘটনাও সামনে আসে।
এ পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এসআরবি-৬ গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করে। এসআরবি-৬ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতা, বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধমূলক জীবনের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ অক্টোবর আলিফ বাহিনীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের আটজন ও মজিদ গ্রুপের সাতজন সদস্যসহ মোট ১৫ জন জলদস্যু এসআরবি-৬-এর কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
আলিফ বাহিনীর ১৫ সদস্যের আত্মসমর্পণের ফলে সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছে এসআরবি-৬। একই সঙ্গে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও অন্যান্য বনজীবীদের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

এসআরবি-৬-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপতৎপরতা থেকে মুক্ত রাখা এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। সুন্দরবনে জলদস্যুতা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এসআরবি-৬-এর মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।