
নিজস্ব প্রতিবেদক
সুন্দরবনে জলদস্যু দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭৪ রাউন্ড তাজা গুলি, সাতটি ওয়াকিটকি সেট ও ছয়টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট উদ্ধার করেছে এসআরবি-৬ স্পেশাল কোম্পানি। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ২৩টি খালি কার্তুজ। বনের বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টানা তিন দিন অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করা এবং বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
এসআরবি-৬-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মো. নাজমুল ইসলাম আজকের প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, সুন্দরবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি শটগান, চারটি দুনলা বন্দুক ও নয়টি ওয়ান শুটারগান। এ ছাড়া ২৭৪ রাউন্ড তাজা গুলি, ২৩টি খালি কার্তুজ, সাতটি ওয়াকিটকি সেট এবং ছয়টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধারের নির্দিষ্ট স্থান এবং অভিযানের বিস্তারিত কৌশল সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিংয়ের তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে গত ৯ অক্টোবর সুন্দরবনে সক্রিয় ‘আলিফ বাহিনীর’ দুটি গ্রুপের মোট ১৫ জন সদস্য দ্বিতীয় দফায় এসআরবি-৬-এর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে দস্যুতা নির্মূলে চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ আত্মসমর্পণ ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। দস্যুতা দমনে এসআরবি-৬-এর সঙ্গে কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় অবস্থিত সুন্দরবন শুধু প্রাকৃতিক ঐতিহ্য নয়, লাখো মানুষের জীবন-জীবিকারও গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন। জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ প্রায় ২৫ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে এ বনের ওপর নির্ভরশীল। মাছ ধরা, মধু সংগ্রহ ও বনজ সম্পদ আহরণ করতে গিয়ে তাঁদের অনেককে গভীর বনে প্রবেশ করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে বনজীবীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে অস্ত্র ও যোগাযোগের সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনাকে সুন্দরবনে অপরাধ দমনের চলমান তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী। তবে বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এসআরবি-৬-এর পক্ষ থেকে এখনো আত্মসমর্পণ না করা জলদস্যুদের দস্যুতার পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়। আত্মসমর্পণকারীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বাহিনীটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, দস্যুতা অব্যাহত রাখলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা এবং বনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে এসআরবি-৬।