
মো, ফয়সাল হোসেন কয়রা প্রতিনিধি
খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের মসজিকুড় গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন ঋতু সানা। এ ঘটনায় তার স্বামী পলাশ মণ্ডল প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন।
পলাশ মণ্ডল জানান, তিন বছর আগে আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে হিন্দু শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী ঋতু সানার সঙ্গে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর কিছুদিন স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন কাটলেও ধীরে ধীরে স্ত্রী সংসারের প্রতি অনীহা দেখাতে থাকেন। তিনি শ্বশুরবাড়িতে গেলে ফিরতে চাইতেন না। এক পর্যায়ে জানা যায়, বিয়ের আগে থেকেই ঋতু সানার সাতক্ষীরা জেলার বাতুয়াডাঙ্গা গ্রামের নকুল সরকারের ছেলে সবুজ সরকারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা পালিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়, যা তার শ্বশুর-শাশুড়ি গোপন রেখে তাকে বিয়েতে সম্মত করান বলে অভিযোগ করেছেন পলাশ মণ্ডল।
পলাশ মণ্ডল আরও জানান, গত ৯ মার্চ রাতে খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে ঘুম ভাঙলে দেখেন স্ত্রী ঋতু সানা বাড়িতে নেই। আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে জানতে পারেন, তিনি সবুজ সরকারের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন। এ সময় তিনি তার স্টিলের বাক্সে রাখা ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন (মূল্য আনুমানিক ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা), ৪ আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল (দুই জোড়া, আনুমানিক মূল্য ৬৫ হাজার টাকা), তরমুজ চাষের জন্য রাখা ১ লাখ টাকা, একটি রিয়েলমি C31 মডেলের মোবাইল ফোন এবং নগদ ৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা নিয়ে যান।
এ বিষয়ে ঋতু সানার পিতা সঞ্জয় কুমার সানা ও মাতা পূর্ণিমা সানাকে জানানো হলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং পাল্টা হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন পলাশ মণ্ডল। তিনি দাবি করেছেন, তার স্ত্রীকে পালাতে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরাও সহযোগিতা করেছেন। এ বিষয়ে কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমদাদুল হক বলেন, “এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”