
মো. তপু শেখ, টুঙ্গিপাড়া প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার তারাইল সালুকা মৌজায় প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল খননের নামে চলছে দায়সারা কার্যক্রম এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রকৃত খনন কাজ না করে বর্ষার পানিতে লোক দেখানো কার্যক্রম চালিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, মান্দার খালটি বর্তমানে ৮-১০ হাত পানিতে পূর্ণ। এই অবস্থায় খনন কার্যক্রম সম্ভব না হলেও, সেখানে একটি এক্সকাভেটর (বেকু) নামিয়ে কচুরিপানা সরিয়ে তা পাশের কৃষিজমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে, অথচ খালের কোনো মাটি তোলা হচ্ছে না। এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে না, বরং এই লোক দেখানো কর্মকাণ্ডের আড়ালে টাকার লেনদেন চলছে।
একজন ক্ষুব্ধ কৃষক বলেন, “খালে পানি থই থই করছে, সেখানে খনন না করে শুধু কচুরিপানা তুলে জমিতে ফেলে ক্ষতি করছে। এটা জনগণের করের টাকা অপচয় ছাড়া কিছুই নয়।” আরেক বাসিন্দা বলেন, “এভাবে একাধিক খাল খনন হয়েছে—দেখতে গিয়ে দেখি শুধু ছবি তুলে বিল উঠানোই মূল লক্ষ্য।”
এই বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী (এসডিও) জানান, “যতটুকু কাজ হবে, ততটুকুই বিল পরিশোধ করা হবে এবং তদারকি থাকবে।” তবে প্রকল্পের কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাঠ পর্যায়ের প্রতিনিধি তাইজুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আপনারা রিপোর্ট করতে চাইলে করেন, পরে কি হবে সেটা আমরা বুঝবো।” এছাড়া গুরু ও ঠাকুর মেম্বার নামের স্থানীয় দুজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা রিপোর্ট করেন, কর্মকর্তাদের বোঝানো আমাদের কাজ।”
তবে প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড টুঙ্গিপাড়ার এসও শাহিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি এবং অফিসেও উপস্থিত ছিলেন না। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন খালে এভাবে বছরের পর বছর ‘নামে মাত্র খনন’ চলছে। এতে করে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হচ্ছে এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অপচয় হচ্ছে সরকারি অর্থ।
তারা দ্রুত প্রকল্পটির স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা যাচাই, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এমন প্রহসনমূলক প্রকল্প যেন না হয়—সে বিষয়ে সরকারকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।