
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গ্রামাঞ্চলে আগাম বর্ষাকালীন সবজি ধুন্দল চাষ করে কৃষকরা এবার বেশ ভালো ফলন পেয়েছেন। ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় চাষিদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার গোনালী, টিপনা, ভদ্রদিয়া, বরাতিয়া, শোভনা, বান্দা ও পেরিখালি—এই সাতটি গ্রামের অধিকাংশ জমিতে এখন ধুন্দলের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। টিপনা-শোভনা সড়কে হাঁটতে হাঁটতে গোনালী গ্রামের পাশে রাস্তার ধারে দেখা মেলে এক ধুন্দলের খেতের। অপরূপ সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে হলুদ ফুল ও কচি ধুন্দল। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয় কৃষক খান জাহান আলী গাজী বলেন, “এত সুন্দর ফলন আমি আগে দেখিনি।”
লাভজনক চাষে কৃষকের আগ্রহ:
স্থানীয় কৃষক মো. আলম শেখ বলেন, “প্রতিদিন সকালে আমি নিজেই ক্ষেত থেকে ধুন্দল তুলে বাজারে বিক্রি করি। জৈব সার ও কিছু পরিমাণ রাসায়নিক সার ব্যবহার করে পরিশ্রম করে আমি এই ফসল ফলিয়েছি। এখন এই ধুন্দল বিক্রি করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে ভালো আয় হচ্ছে।”
টিপনা গ্রামের আরেক কৃষক ফারুক সরদার জানান, “আগে অল্প জমিতে ধুন্দল চাষ করতাম, এখন বাণিজ্যিকভাবে করছি। গতবারের চেয়ে এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে।”
কৃষক সাইফুল ইসলাম ও আইয়ুব আলী জানান, “ধুন্দল চাষে রোগবালাই কম হয়, খরচও কম, ফলে অধিকাংশ কৃষক এই ফসলে আগ্রহী হচ্ছেন।”
উৎপাদন ও বাজারদর:
চাষিরা জানায়, বীজ বপনের ৫০–৫৫ দিনের মাথায় ফসল সংগ্রহ শুরু হয় এবং প্রায় সাড়ে তিন মাস পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৫০ মণ ধুন্দল উৎপাদন হয়। এতে খরচ হয় ২০–২৫ হাজার টাকা, আর আয় হয় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত।
আগাম মৌসুমে প্রতি কেজি ধুন্দল ৪০–৪৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে ২৫–৩০ টাকায়। তবে ফলন ভালো হওয়ায় আয় সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
কৃষি বিভাগের মতামত:
ডুমুরিয়ার টিপনা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূরুনাহার বলেন, “আগে যেখানে জমি পড়ে থাকত, এখন সেখানে ধুন্দল চাষ হচ্ছে। এ কারণে কৃষকেরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এটি এখন এলাকার অন্যতম অর্থনৈতিক ফসল।”
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, “ধুন্দল একটি উচ্চমূল্যের ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ সবজি। ডুমুরিয়ায় উৎপাদিত সবজি শুধু খুলনাই নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ হচ্ছে। আমরা কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছি যাতে তারা নিরাপদ ও লাভজনক উৎপাদনে সক্ষম হন।”
সার্বিক চিত্র:
একসময় প্রাকৃতিকভাবে গজিয়ে উঠলেও এখন পরিকল্পিত ও বাণিজ্যিকভাবে ধুন্দল চাষ হচ্ছে ডুমুরিয়ায়। এতে একদিকে যেমন চাষিদের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে এলাকায় বেকারত্ব কমে যাচ্ছে।
এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ধুন্দল হতে পারে ডুমুরিয়ার অন্যতম রপ্তানিযোগ্য সবজি—এমন আশা করছেন স্থানীয় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।