
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
ভ্রাম্যমাণ ভিক্ষুকদের সরকারি রেশন ও ভাতার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নামে খোলা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ও সিম কার্ড সংগ্রহ করে প্রতারণা করছিল একটি চক্র। সেই চক্রের মূলহোতা বলে অভিযোগ থাকা এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।
সিআইডি জানায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী মহানগরীর পবা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোছা. সুলতানা খাতুন (৪৫) ও তাঁর স্বামী মো. মোবারক হোসেন (৫৫)–কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বাড়ি রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার ছোট বোনগ্রাম এলাকায়।
অভিযানের সময় তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা নগদ ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, অপরাধে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন সেট ও চারটি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।
প্রতারণার কৌশল
তদন্তে জানা গেছে, বাড়িতে কোনো ভ্রাম্যমাণ ভিক্ষুক এলে তাঁদের সরকারি রেশন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিতেন এই দম্পতি। বিনিময়ে ভিক্ষুকদের নিজেদের নামে নিবন্ধিত এমএফএস অ্যাকাউন্ট (বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) ও সিম কার্ড তাঁদের কাছে জমা রাখতে হতো।
পরে ওই সিম কার্ড ব্যবহার করে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের ফোন দেওয়া হতো। জানানো হতো—তাঁদের মা, মেয়ে বা স্ত্রী দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং জরুরি ভিত্তিতে অর্থ প্রয়োজন। আতঙ্কিত হয়ে অনেকে টাকা পাঠাতে রাজি হলে আগে থেকে সংগ্রহ করা ভিক্ষুকের এমএফএস নম্বর দেওয়া হতো।
কাঙ্ক্ষিত অর্থ পাওয়ার পর ব্যবহৃত সিম ও মোবাইল ফোন নষ্ট করে ফেলতেন তাঁরা। সন্দেহ এড়াতে কখনো কণ্ঠ পরিবর্তন করে বা অসুস্থতার অজুহাতও দেওয়া হতো বলে জানিয়েছে সিআইডি।
মামলার সূত্র
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এক ভুক্তভোগীর মায়ের কাছে তাঁর সুইডেনপ্রবাসী মেয়ের পরিচয়ে ফোন করে প্রতারকেরা জানায়, তিনি দেশে এসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। চিকিৎসার জন্য অর্থ প্রয়োজন বলে একটি রকেট অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়া হয়। বিভিন্ন সময়ে মোট ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬০ টাকা পাঠানোর পর প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গত ২৯ এপ্রিল ২০২৫ গোমস্তাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে এটি নিয়মিত মামলা (ধারা ৪০৬/৪২০) হিসেবে রুজু হয়।
গ্রেপ্তার ও পরবর্তী পদক্ষেপ
সিআইডির এলআইসি শাখার প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে ব্যবহৃত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর শনাক্ত করে অভিযুক্তদের অবস্থান নির্ণয় করা হয়। এরপর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিআইডির একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত দম্পতি একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। তাঁদের আদালতে সোপর্দ ও রিমান্ড আবেদন প্রক্রিয়াধীন। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।