
হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সুবিধা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশটির এক আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক ট্রাম্পের এই আদেশ ১৪ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অর্থ
‘জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব’ নীতির অর্থ হচ্ছে, যে কেউ যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে দেশটির নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে। এই নীতি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে সংরক্ষিত রয়েছে।
ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগ থেকেই এই নীতি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন। ক্ষমতায় বসে তা কার্যকর করার লক্ষ্যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, যা নিয়ে দেশে ও বিদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
সংবিধানের বিরোধিতার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীতে স্পষ্টতই উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং এর আওতাধীন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বা আত্মীকৃত প্রত্যেক ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নাগরিক।’
এছাড়া সংবিধানের এই নীতি পরিবর্তনের জন্য কংগ্রেসের দুই কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। ফলে ট্রাম্পের আদেশকে অসাংবিধানিক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
আদালতের প্রতিক্রিয়া
ওয়াশিংটনের সিনিয়র ডিস্ট্রিক্ট জজ জন কগেনর বলেন, ‘এটি একটি নির্লজ্জভাবে অসাংবিধানিক আদেশ। আমি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বেঞ্চে রয়েছি, কিন্তু এ ধরনের দ্বিতীয় কোনো মামলা পাইনি।’
চ্যালেঞ্জ ও প্রতিরোধ
ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে ২২টি ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন অঙ্গরাজ্য, সান ফ্রান্সিসকো শহর এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সহ বেশ কিছু অঞ্চলে মামলা দায়ের করা হয়।
অভিবাসনবিরোধীদের মতে, এই নীতিটি অবৈধ অভিবাসীদের জন্য একটি ‘বড় চুম্বক’, যা তাদের যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানে উদ্বুদ্ধ করে। তারা একে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ এবং ‘অ্যাংকর বেবি’ বলেও উল্লেখ করে।
ট্রাম্পের এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত সফল হবে কি না, তা আদালতের পরবর্তী রায়েই নির্ধারিত হবে।