
উম্মে উমামারাত্রি স্টাফ রিপোর্টার
রানিং স্টাফদের পেনশন ও আনুতোষিক দাবিসহ একাধিক দাবি পূরণ না হওয়ায় টিটিই, গার্ড ও ট্রেন চালকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে নেমেছেন। এর ফলে খুলনা থেকে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যা যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।
স্টেশন মাস্টার মো. জাকির হোসেন বলেন, “স্টেশনটি এখন প্রায় জনশূন্য। খুলনা থেকে প্রতিদিন ১১ জোড়া ট্রেন চলাচল করত। কিন্তু আজ সকাল থেকে কোনো ট্রেনই স্টেশন ছেড়ে যায়নি। ধর্মঘট কবে শেষ হবে, তা আমরা জানি না। তবে যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
তবে রানিং স্টাফদের দাবিগুলো নিয়ে এখনো কোনো সমাধান আসেনি। কবে নাগাদ ট্রেন চলাচল শুরু হবে, তা নিয়ে রয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
ট্রেন বন্ধ থাকায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কেউ কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না, কেউ চিকিৎসার জন্য শহরে এসে আটকা পড়েছেন।
ব্যবসায়ী মানিক মোল্লা বলেন, “ব্যবসার কাজে রাজশাহী যেতে হবে, কিন্তু ট্রেন বন্ধ থাকায় এখন আটকা পড়েছি। এভাবে চলতে থাকলে ক্ষতি আরও বাড়বে।”
চাকরিজীবী হিমেল সরকার বলেন, “ছুটি নিয়ে ঝামেলা থাকে, তাই সময় বাঁচাতে ট্রেনই ভরসা। এখন আর কোনো উপায় দেখছি না।”
পরিবার নিয়ে ভ্রমণে থাকা আয়েশা খানম বলেন, “ট্রেনে যাতায়াত সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক। ধর্মঘট না থাকলে অনেকটাই সুবিধা হতো।”
রহিমা বেগম বলেন, “ডাক্তার দেখানোর জন্য খুলনায় এসেছিলাম। ট্রেন না থাকায় বাড়ি ফিরতে পারছি না। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে।”
আরেক যাত্রী আব্দুল রহমান বলেন, “সন্তানকে নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে রাজশাহী যেতে হবে। কীভাবে যাব বুঝতে পারছি না।”
যাত্রীরা সরকারের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা বলেন, “যদি রানিং স্টাফদের দাবিগুলো যৌক্তিক হয়, তবে তা সমাধান করুন। এই ধর্মঘট দ্রুত শেষ না হলে জনজীবনে আরও অচলাবস্থা তৈরি হবে।”
যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি খুলনা স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি থমথমে। প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।