
মনির খান ষ্টাফ রিপোর্টার।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় বিদ্যুতের তার চুরি করার সময় বৈদ্যুতিক স্পর্শে মো:ইরফান মুন্সি (২৪) নামক এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরন করেন। লোহাগড়া থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত মো: ইরফান মুন্সি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মল্লিক পুর ইউনিয়নের চর- করফা গ্রামের মো: তুরাফ মুন্সির ছেলে, সে পেশায় একজন রাজ মিস্ত্রি। ইরফান মুন্সীকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ রবিবার আনুমানিক রাত ১২ টার সময় একই গ্ৰামের খোকা মোল্লার ছেলে রবিউল মোল্লা ও আক্তার শেখের ছেলে আরিফ শেখ ইরফান মুন্সী কে ঘুম থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়! এবং লোহাগড়া আর্মি ক্যাম্পে সামনে, পল্লব দের বাড়ির পাশে বৈদ্যুতিক তার চুরি করার উদ্দেশ্যে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের খাম্বায় উঠিয়ে দেয়। এবং বৈদ্যুতিক তার ইস্পর্শে ইরফানের শরীরের অধিকাংশ পুড়ে গিয়ে খাম্বার উপর থেকে নিচে পড়ে যায়। তখন রবিউল মোল্লা ও আরিফ শেখ ইরফান মুন্সীকে ওই অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থানে ইরফান মুন্সীর চিৎকার শুনে একজন লোক এগিয়ে আসে এবং আরো কিছু লোকের সহযোগিতায় তাকে তার বাড়িতে নিয়ে আসে।
ইরফান মুন্সিকে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে এবং অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ কর্তব্যরত চিকিৎসক ইরফান মুন্সি বাঁচবে না মর্মে ঢাকা থেকে ফেরত পাঠায়। ঢাকা থেকে আসার পথে ইরফান মুন্সি মারা যায়। ১৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকেলে নিহত ইরফান মুন্সীর লাশ তার নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়।
ইরফান মুন্সীর নিজেই একটি বক্তব্যে বলে যায় যে তাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে নিয়ে বিদ্যুতের খাম্বায় উঠতে বাধ্য করেছে, রবিউল মোল্লা ও আরিফ শেখ। যদি বিদ্যুতের খাম্বায় না উঠে তাহলে তাকে মেরে ফেলা হবে।
ইরফান মুন্সীর স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী কে ঘুম থেকে জোর পূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যায় রবিউল মোল্লা ও আরিফ শেখ। এবং তাকে বিদ্যুতের খাম্বায় উঠতে বাধ্য করে, আমি এর বিচার চাই।
ইরফান মুন্সীর বাবা বলেন, কিছু দিন আগে রবিউল মোল্লা ও আরিফ শেখ ২ জনেই একটি চুরি ঘটিত ব্যাপারে গ্রাম্য শালিশে তাদের কে ১৫০০০ টাকা জরিমানা করে এবং সেই টাকা ১০ ফেব্রুয়ারি দেওয়ার কথা ছিল। সেই জরিমানার টাকা জোগাড় করতে আমার ছেলে কে জোর পূর্বক নিয়ে বিদ্যুতের খাম্বায় উঠতে বাধ্য করে এবং দুর্ঘটনাই আমার ছেলে মারা যায়। আমি ওই দুজনের বিচার চাই।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক ( তদন্ত) আব্দুল আল মামুন বলেন, নিহতের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।