
বাংলাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দিন দিন বেড়ে চলেছে, যা বিশেষভাবে শহরাঞ্চলে এক অনাকাঙ্ক্ষিত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় এই গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ড যেন প্রতিদিনই নতুন এক আতঙ্কের জন্ম দিচ্ছে। খুলনা শহরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কিশোর গ্যাংয়ের ছিনতাই, ছুরিকাঘাত এবং অন্যান্য সহিংসতার ঘটনা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে কিছু নিষ্পাপ জীবন ঝরে যাচ্ছে এবং পুরো সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কিশোর গ্যাংয়ের এই উত্থান একদিকে সমাজের দুর্বলতার প্রমাণ, অন্যদিকে পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবও এর পেছনে অন্যতম কারণ। যখন পুলিশ বাহিনী যথাযথ নজরদারি ও ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তখন অপরাধীরা আরও সাহসী হয়ে ওঠে। খুলনার মতো বিভাগে সঠিক টহল ব্যবস্থা না থাকলে, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
অন্যদিকে, পুলিশের দায়িত্ববোধ এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম বন্ধ করতে হলে পুলিশের টহল জোরদার করা অত্যাবশ্যক। বিশেষত, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বাসস্ট্যান্ডগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো উচিত। তাছাড়া, ছিনতাই, হামলা বা ছুরিকাঘাতের মতো ঘটনার দ্রুত প্রতিকার ও অপরাধীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা হলে, অপরাধের মাত্রা কমানো সম্ভব হবে।
তবে শুধুমাত্র পুলিশ বাহিনীর ওপর দায়ভার না রেখে, সামাজিক সচেতনতা এবং পরিবারের দিকনির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালিত করা, যাতে তারা কিশোর গ্যাংয়ের হাত থেকে রক্ষা পায়। তাছাড়া, স্কুল-কলেজে এসব বিষয় নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা, যাতে তরুণদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা কমে আসে।
বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা এবং খোলামেলা সমাজে অপরাধ দমন করার জন্য সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সঠিক আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সম্ভবত এই গ্যাং কালচার রোধে সহায়ক হবে।
এছাড়া, খুলনা বিভাগে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে সাধারণ জনগণের বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করা যেতে পারে, যাতে তারা পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি আরও আস্থা রাখতে পারে।
মোঃ মামুন হাচান
কো-অর্ডিনেটর- সাউথ এশিয়ান ক্রাইম ওয়াচ সোসাইটি। অপরাধ পর্যবেক্ষণ ও মানবাধিকার সংস্থা।