
নিজস্ব প্রতিবেদক
নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, অনলাইন হয়রানি এবং বিচারহীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে নড়াইলের কালিয়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) সকাল ১১টায় কালিয়া উপজেলার সরকারি কালিয়া পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে এক শিক্ষার্থী বলেন, “স্বাধীন দেশে নারীদের নিরাপত্তা কোথায়? আজ আমার ছোট বোন ধর্ষণের শিকার হয়েছে, আগামীকাল আমি হবো না তার গ্যারান্টি কোথায়?” তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ধর্ষণের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বক্তারা নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি, দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।
আইনের কঠোরতা ও শাস্তির বিধান:
১. ধর্ষণ: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) অনুযায়ী ধর্ষণের শাস্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড। ২. অনলাইন হয়রানি: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কাউকে হেনস্তা করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। ৩. নারী নির্যাতন: দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারা অনুযায়ী, নারীর শ্লীলতাহানি বা শারীরিক নির্যাতন করলে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড প্রযোজ্য হতে পারে।
বক্তারা এসব আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, “নারীদের নিরাপত্তা না থাকলে সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হবে। প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে এবং দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।”
সমাজের করণীয়
নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতন ও আত্মরক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রত্যেক নাগরিককে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে সহায়তা করতে হবে।
নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে রাষ্ট্রের কঠোর ভূমিকা ও জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিই পারে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে। এই মানববন্ধন সেই দাবি পুনরায় উত্থাপন করেছে।