
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য গাম্বিয়ার সঙ্গে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং কূটনৈতিক বিনিময়কে সহজতর করবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) এবং গাম্বিয়ার পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. মামাদু টাঙ্গারা।
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার প্রসার:
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার নৈতিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ওআইসির সমর্থনে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গাম্বিয়ার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “তৈরি পোশাক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও ওষুধশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও টেকসই কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।”
চুক্তির প্রধান দিক:
চুক্তিতে মোট ১০টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। এর ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীরা ৯০ দিনের জন্য ভিসা ছাড়াই একে অপরের দেশে প্রবেশ, বহির্গমন ও ট্রানজিট সুবিধা পাবেন। চুক্তিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বলবৎ থাকবে, তবে যেকোনো পক্ষ ৯০ দিনের নোটিশের মাধ্যমে চুক্তি বাতিল করতে পারবে।
উপস্থিত অতিথিরা:
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গাম্বিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা জাওয়ারা, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক শেইক ওমর বিটায়ে, বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (আফ্রিকা) বি এম জামাল হোসেনসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশের বৈশ্বিক সংযোগের অগ্রগতি:
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৩০টি দেশের সঙ্গে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।”
এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।