
খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা মহানগরের গফফার বিশ্বাসের পেট্রোল পাম্প এলাকা থেকে মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণ হওয়া এক যুবককে খুলনা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অপহরণে নেতৃত্বদানকারী একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে খুলনা জেলা, সোনাডাঙ্গা থানা, বসুপাড়া গ্রাম, ঠিকানা: ১১০/১১১ নর্থ খাল ট্যাংক রোড, পিতা: মোঃ লুৎফর রহমান মোল্লার ছেলে —তনু (৩০) কে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অপহরণ করে খুলনা জেলা, সদর থানা, নিরালা গ্রাম, পিতা: এস এম ইকবালের ছেলে মাহমুদুল হাসান তারিফ এর নেতৃত্বে আবির, সজীব, মেহেদী, রনি এবং আরও ১০/১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। অপহরণের পর ভিকটিমকে গোয়ালখালি পানির ট্যাংকির পেছনের রাস্তায়, বিএল কলেজ নদীর পাড়ে এবং কৃষি কলেজের ভিতরে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে ভিকটিমের মা রওশন আরার মোবাইলে (০১৮৪৯৭৪০৭৯২) নম্বরে ০১৭৬৬১৮৩২৯৩ নম্বর থেকে কল করে দুই লক্ষ টাকা মুক্তিপণ ও মোটরসাইকেলের কাগজপত্র দাবি করে অপহরণকারীরা। তারা ভিকটিমের মা-বাবাকে গোয়ালখালি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টাকা নিয়ে আসতে বলে। ভিকটিমের মা-বাবা সেখানে পৌঁছালে মাহমুদুল হাসান তারিফ তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিএল কলেজের গেটের উল্টোপাশে অপেক্ষা করতে বলে।
রাত ১০টা ১০ মিনিটে খুলনা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে বিএল কলেজ গেট এলাকা থেকে মাহমুদুল হাসান তারিফকে আটক করা হয়। এরপর রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে দৌলতপুর থানাধীন ফুট ওভার ব্রিজের নিচে একটি অটো থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
তদন্তে জানা যায়, ভিকটিম তনু অতীতে মাদক বিক্রেতাদের একটি চালান পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিল। এতে অপহরণকারীদের দেড় লক্ষ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছিল। সেই ক্ষতি পূরণ এবং প্রতিশোধ নিতে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে খুলনা সদর থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।