
খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন শিববাড়ি মোড়ে আজ দুপুর ১টা ৫ মিনিট থেকে ১টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত “কারিগরি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, খুলনা” শাখার উদ্যোগে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মোঃ আকাশ শিকদারের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এই কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষার্থীরা—সাজিদ হাসান, তাহমিদ, তানিয়া, মাশরাফি, তানভীর, শিশির, জুবায়ের, রিয়া আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস, ফারিয়া আক্তার, হামিম প্রমুখ।
শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপঃ
১. পদোন্নতিতে অনিয়ম বন্ধ ও দায়ীদের শাস্তি দাবি: শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পদে অনেক ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরকে অবৈধভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এসব পদোন্নতির রায় হাইকোর্ট বাতিল করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। একইসাথে তারা ২০২১ সালে বিতর্কিতভাবে নিয়োগ পাওয়া ইন্সট্রাক্টরদের নিয়োগ বাতিল এবং দায়ীদের চাকরিচ্যুত করার দাবি জানান।
২. ভর্তি ও কারিকুলামে মান উন্নয়ন: উন্নত বিশ্বের আদলে কারিকুলামকে চার বছর মেয়াদী এবং মানসম্পন্ন করার দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, যেকোনো বয়সে ভর্তি হওয়ার নিয়ম বাতিল করে একাডেমিক কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে ইংরেজি মাধ্যমে চালু করতে হবে।
৩. ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত পদের সুরক্ষা: তারা বলেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও সমমানের (১০ম গ্রেড) পদ ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রতিষ্ঠানে তা মানা হচ্ছে না। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
৪. কারিগরি বহির্ভূত জনবল নিয়োগ বন্ধ: শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় পরিচালক, বোর্ড চেয়ারম্যান, নিয়ন্ত্রক ইত্যাদি পদে সাধারণ প্রশাসনিক জনবল নয় বরং কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জনবল নিয়োগ দিতে হবে। দক্ষ শিক্ষক ও ল্যাব সহকারীদের নিয়োগের জন্য দ্রুত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার দাবি ওঠে।
৫. স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় ও কমিশন গঠন: তারা বলেন, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে “কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়” নামে স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে “কারিগরি শিক্ষা সংস্কার কমিশন” গঠন করতে হবে।
৬. উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি ও নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: ডিপ্লোমা ও মনোটেকনিক শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নতমানের একটি টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একইসাথে নির্মাণাধীন চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (নড়াইল, নাটোর, খাগড়াছড়ি ও ঠাকুরগাঁও) অস্থায়ী ক্যাম্পাসে DUET-এর আওতায় পরিচালনা করে শতভাগ ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, দাবিগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে।