
জাকির হোসেন হাওলাদার, দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দায়েরকৃত সংঘর্ষের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে জয়গুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় (হিন্দু) শিক্ষক সজল পাইনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গত ১৭ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বাউফল থানা পুলিশ মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজার এলাকা থেকে সজল পাইনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
এ ঘটনায় এক সপ্তাহ পার হলেও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সত্য রঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে। তিনি এ প্রসঙ্গে জানান, “আমি এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি এখনো জানাতে পারিনি।”
মামলার সূত্র অনুযায়ী, বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের সন্যাসী কান্দা এলাকার সমীর রঞ্জন পাল ও সজল পাইনদের মধ্যে জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর বিরোধীয় জমির ধান কাটা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সমীর রঞ্জন পাল গুরুতর আহত হন এবং তাঁকে প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় সমীর রঞ্জন পাল বাদী হয়ে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর: সিআর-৭০০/২৪।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মোহাম্মদ ইজাজুল হক জানান, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। অবগত হলে যথাযথ বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পটুয়াখালী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মুজিবর রহমান বলেন, “এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক কারাগারে থাকলে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির নিয়ম অনুসারে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে।”