
মনির খান, স্টাফ রিপোর্টার
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা ভূমি অফিসের রেকর্ড সংশোধন প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভূমি পরিপত্রের বিধান লঙ্ঘন করে ডিসিআর (Duplicate Carbon Receipt) ছাড়াই রেকর্ড সংশোধন করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির সাইদুর রহমান।
সূত্র জানায়, রেকর্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কোর্ট ফি ও অন্যান্য ফি ডিসিআর-এর মাধ্যমে আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে নাজির সাইদুর রহমান সরকারি প্রক্রিয়া এড়িয়ে সরাসরি সংশোধিত খতিয়ান সরবরাহ করেছেন। এতে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে এবং ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভূমি পরিপত্রের ৮.০৮ ধারা অনুযায়ী, রেকর্ড সংশোধনের আবেদনের সঙ্গে কোর্ট ফি যুক্ত করা বাধ্যতামূলক। কেবলমাত্র ১ নম্বর খাস খতিয়ান সংশোধনে ফি মওকুফের বিধান রয়েছে। সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যত্যয় ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, এ ধরনের অনিয়ম বাংলাদেশের দণ্ডবিধি ৪০৫ ধারার “Criminal Breach of Trust”-এর মধ্যে পড়ে এবং দোষী প্রমাণিত হলে জেল, জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
এ বিষয়ে নাজির সাইদুর রহমান বলেন, “যদি এমন কিছু ঘটে থাকে, তবে সেটি অবশ্যই অপরাধ।” তার মন্তব্য থেকেই অভিযোগের আংশিক সত্যতা প্রতীয়মান হয়।
নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, “সরকারি স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলে অপরাধ হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম ভূমি প্রশাসনে মানুষের আস্থা কমায় এবং সরকার রাজস্ব হারায়। ভূমি রেকর্ড সংশোধন ও নামজারি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে ভূমি পরিপত্র মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।