
মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
নারী ও শিশুদের প্রতি যৌন হয়রানির মতো অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক প্রতিবাদ আরও জোরালো হলো গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়। জেলার মান্দ্রা রাজাগঞ্জ ইউনাইটেড ইনস্টিটিউশন স্কুলে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষকের বড় ভাই ও স্কুলের প্রধান শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের শিক্ষক হাসান মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন ওরফে কাজল ওই ছাত্রীকে মোবাইল ফোনে কু-প্রস্তাব দিলে। ছাত্রীটি বিষয়টি পরিবার ও সহপাঠীদের জানালে তা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রমাণস্বরূপ অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক থাকায় ক্ষুব্ধ জনতা তার বড় ভাই ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাসান মুহাম্মদ নাসির উদ্দীনকে ধরে গণধোলাই দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক আগেও একাধিকবার ছাত্রীদের হয়রানি করেছেন। কিন্তু তার বড় ভাই প্রধান শিক্ষক হওয়ায় ঘটনাগুলো বারবার ধামাচাপা পড়ে যায়। তারা বলেন, পূর্বের ঘটনাগুলোর বিচার হলে আজকের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না।
এলাকাবাসীর দাবি, এমন শিক্ষক সমাজে কালো দাগ। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনিরাপদ হয়ে উঠবে। অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ ধরনের ঘটনা সমাজে কোনোভাবেই বরদাশতযোগ্য নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তৎপরতা ও অভিভাবকদের সচেতনতা আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন — সময় এসেছে অপরাধী যেই হোক, তাকে ছাড় না দেওয়ার।