
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের কালিয়াজুরি এলাকার প্রবাসী আনিসুর রহমান জমি লেনদেনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি দীর্ঘ ২২ বছর বিদেশে শ্রম দিয়ে উপার্জিত অর্থে ৭৪ শতক জমি ক্রয় করেন। তবে জমি বুঝে নিতে গিয়ে দেখা যায়, ৮ শতক জমি কম রয়েছে। ওই জমির বদলে তাকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাস জমি বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন মধ্যম মাঝিগাছা এলাকার মৃত নোয়াব মিয়া মাস্টারের ছেলে নুরে আলম (৪০)। তিনি প্রবাসীর কাছে জমির মোট মূল্য বাবদ টাকা গ্রহণ করলেও, চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ জমি বুঝিয়ে দেননি। বরং পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাস জমি প্রবাসীর নামে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালান, যা অবৈধ এবং প্রতারণার শামিল।
প্রবাসী আনিসুর রহমান অভিযোগ করেন, “আমি কষ্টের টাকায় জমি কিনেছি, সরকারি খাস জমি নয়। অথচ নুরে আলম আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। উপরন্তু সে নিজেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে আমাকে ভয়ভীতি দেখায় এবং হত্যার হুমকিও দিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, নুরে আলম স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার আশ্রয়ে থেকে এসব প্রতারণা করে আসছে। তার অভিযোগ, আমড়াতলি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন চেয়ারম্যান এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবিরাজ জসিম উদ্দিনের সহযোগিতায় তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।
ঘটনার পর আনিসুর রহমান কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য থানার প্রবাসী কল্যাণ সেলে পাঠানো হয়েছে। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে (স্মারক নং ৩১০৩/এম, তারিখ: ২৪/০৫/২০২৫) প্রবাসী কল্যাণ সেলের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. শহীদ হোসেন অভিযুক্ত নুরে আলমকে হাজির হতে নির্দেশ দিয়ে একটি নোটিশ জারি করেন।
আনিসুর রহমান বলেন, “আমি একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখেছি। অথচ দেশে ফিরে প্রতারণার শিকার হতে হলো। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি—এই প্রতারককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।