
চৌধুরী জুয়েল রানা স্টাফ রিপোর্টার
নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার দক্ষিণ যোগানিয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ ময়দানে আজ মঙ্গলবার (৩ জুন) অনুষ্ঠিত হলো ঢালাই উন্নয়নকাজের শুভ উদ্বোধন। বহুদিন ধরে এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি ছিল এই ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন, যেখানে ঈদের দিনে হাজারো মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করেন।
উক্ত মহৎ কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করে বিএম বাকির হোসেন স্মৃতি সংস্থা ফাউন্ডেশন। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিএম নাগিব হোসেন-এর সার্বিক পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও মানসিক শ্রমেই আজকের এই বহুল কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের যাত্রা শুরু হয়।

উদ্বোধন করেন সমাজসেবক মিজানুর রহমান মিলু শেখ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন এলাকার সম্মানিত ব্যক্তি হবি মোল্লা, সোহাগ শেখ, মিকু শেখ, নজরুল শেখ, মিলু মাষ্টার, তৈয়েবুর রহমান বাবু, কাবুল শেখ, আতাহার শেখ, নজরুল মেম্বার, খাসরুল মোল্লার, কামরুল শেখ,ফারুক মোল্লা, আশরাফ মেম্বার, ঝিকু খান, আসরুল ফকির, আতাহের খা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে সংস্থার পক্ষে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবলু। তিনি বলেন: “বিএম নাগিব হোসেন ভাই শুধু একজন সংগঠক নন—তিনি একজন দায়িত্বশীল, চিন্তাশীল মুসলিম। ঈদগাহ মাঠের এই কাজ তিনি নিজের সম্পদ বা পরিচয়ের জন্য করেননি, করেছেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, করেছেন এলাকাবাসীর সম্মিলিত কল্যাণের জন্য। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্মীয় স্থানে সৌন্দর্য, পরিপাটি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা শুধু একটি উন্নয়ন কাজ নয়—এটি একটি ইবাদত।”

তিনি আরও বলেন: “আমাদের এই ঈদগাহ মাঠে যখন মানুষ সাদা জামা পরে তাকবির বলে এক কাতারে দাঁড়ায়, তখন এই মাঠ হয়ে ওঠে এক ঈমানি ঐক্যের দৃশ্য। এই ঐতিহাসিক স্থানটি যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাপূর্ণ থাকে—সেই দায়িত্ব অনুভব করেই বিএম নাগিব ভাই এই কাজে এগিয়ে এসেছেন।”
অনুষ্ঠানে ঈদগাহ মাঠের ইমাম এবং প্রবীণ মুসল্লি হবি মোল্লা ইসলামের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন এবং বলেন, “এমন উদ্যোগ গ্রহণকারীরা দুনিয়া ও আখিরাতে নাজাতপ্রাপ্তদের কাতারে থাকবেন, ইনশাআল্লাহ।”
আসরুল আলম বলেন, “এই ঈদগাহ মাঠে আমি আমার বাবার সঙ্গে জামাতে দাঁড়িয়েছি, আজ আমার সন্তানও এখানে নামাজ পড়ে। এমন একটি পবিত্র স্থানে উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি।”
মিলু মাষ্টার বলেন ঈদগাহ মাঠে ঢালাই কাজ বহুদিনের চাহিদা ছিল। এখন তা শুরু হওয়ায় মানুষের মধ্যে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পাচ্ছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে এলাকার যুবসমাজ, প্রবীণ এবং ধর্মপ্রাণ জনগণ এক কাতারে দাঁড়িয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
পরিশেষে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন এলাকার শত শত ধর্মপ্রাণ মানুষ। ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নকাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এবং এর মাধ্যমে এলাকায় শান্তি, ঐক্য ও ধর্মীয় মর্যাদা আরও দৃঢ় হয়—সেই প্রার্থনাই উঠে আসে সবার মুখে।