
খুলনা, ১১ জুন ২০২৫
রিপোর্টার: মো. রাজু হাওলাদার খুলনা
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার গোপালখালী এলাকার ‘রানা রিসোর্ট অ্যান্ড এমিউজমেন্ট পার্ক’-এ ঘুরতে এসে কুরআনের হাফেজ হাবিবুর রহমান (১৩) সুইমিংপুলে ডুবে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছে। অব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকা ও কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারণে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার।
হাবিবুর রহমান ঝালকাঠির কাওখালী উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদের ছেলে। ঢাকার সাভারের ইসলামিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসা থেকে সদ্য হেফজ সম্পন্ন করে ঈদের ছুটিতে নানাবাড়ি খুলনা শহরের ৭ নম্বর ঘাটে বেড়াতে এসেছিল। আজ বিকেল ২টার দিকে সে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রানা রিসোর্টে বেড়াতে যায়। পার্কের টিকিট কেটে নির্ধারিত নিয়ম মেনেই সুইমিংপুলে নামে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সুইমিংপুলে কোনো ধরনের লাইফ জ্যাকেট, রেসকিউ টিম কিংবা প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী ছিল না। এক পর্যায়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে হাবিবুর পানির নিচে তলিয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর অপর এক দর্শনার্থীর পায়ে তার নিথর শরীর আটকে গেলে চিৎকার শুরু হয়। পরে দ্রুত উদ্ধার করে বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. দেব জ্যোতি বৈরাগী ও উপ-সহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দেবী ব্যাপারী হাবিবুরকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাবিবুরের খালু সাংবাদিকদের জানান, “আমরা ২০০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে পুলে ঢুকেছিলাম, কিন্তু সেখানে কোনো নিরাপত্তা ছিল না। একটা লাইফ জ্যাকেটও দেওয়া হয়নি। আমাদের চোখের সামনে একটা জীবন ঝরে গেল।”
এর আগে রানা রিসোর্টের বিভিন্ন অনিয়ম ও নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে স্থানীয় ছাত্র সংগঠন ও অধিকারকর্মীরা একাধিকবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে রিসোর্টটি বন্ধের দাবিও উঠেছিল। এমনকি অতীতে খুলনার একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসী বারবার এই পার্কটির বিরুদ্ধে অনিয়ম, উচ্চমূল্য, নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্ব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুললেও কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। আজকের এই ঘটনা তারই মর্মান্তিক পরিণতি।
এ বিষয়ে রানা রিসোর্টের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। নিহত হাফেজ হাবিবুর রহমানের মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।