1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নড়াইলে নবগঙ্গা সেতুর কাজ থমকে, দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ চরমে তেরখাদায় দুর্গাপূজা ঘিরে পুলিশের মতবিনিময় সভা, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা তেরখাদায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, সহনশীল দেশ গড়ার আহ্বান খুলনার জিরো পয়েন্টে বাসে তল্লাশি, ৬ কেজি ৫৯৭ গ্রাম আইস উদ্ধার সাজমীর হত্যা মামলায় এসআরবি-৬-এর অভিযানে দুই আসামি গ্রেপ্তার রূপসায় ইটভাটা ব্যবসায়ী ফখরুল হত্যা মামলার আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার বড়দিয়া বাজার রক্ষায় উদ্যোগ, ভাঙন প্রতিরোধে শুরু হচ্ছে জরুরি কার্যক্রম খুলনার একাধিক হত্যা মামলার আসামি ওসমান পাবনায় গ্রেপ্তার সুন্দরবনে জলদস্যুদের আস্তানায় অভিযান, ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার বড়দিয়া বাজারে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন ইউএনওর, ১৬ ব্যবসায়ীকে সহায়তা ও জিওব্যাগ ফেলার নির্দেশ

শিক্ষক দেখলেই সাইকেল থেকে নেমে যেতাম: আমরা সেই প্রজন্ম

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০২৫
  • ৩৩৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

একটা সময় ছিল—দূর থেকে কোনো শিক্ষককে দেখা মাত্রই সাইকেল থামিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে যেতাম। শুধু আমি নই, আমরা অনেকেই। শ্রদ্ধার জায়গাটা ছিল এতটাই গভীরে, যে তা কোনো নিয়ম বা বাধ্যবাধকতা দিয়ে নয়—চর্চা, মন, মগজ ও আত্মায় লালিত হতো। আমরা সেই প্রজন্ম, যাদের রক্তে বইতো শিক্ষক-ভক্তির এক অবিনাশী ধারা।

শিক্ষকের মুখে উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ ছিল আমাদের জন্য ধ্রুবতারা। তাঁরা শুধু পাঠ্যবইয়ের পাঠদান করতেন না, শেখাতেন কীভাবে মানুষ হতে হয়। শিখাতেন মঞ্চে কথা বলতে, কোনো আয়োজনে দায়িত্ব নিতে, কিংবা জীবনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তগুলোর ভেতরেও বড় শিক্ষা খুঁজে নিতে। খালি হাতে তাঁরা জাতি গড়েছেন—জ্ঞান আর আদর্শ দিয়ে।

আজকের প্রজন্ম সেই জায়গা থেকে অনেক দূরে সরে এসেছে। এখন শিক্ষকের ক্লাসেও অনেকে মোবাইল স্ক্রলে ব্যস্ত থাকে, শ্রদ্ধাভরে সালাম দেয়ার সংস্কৃতি দিনকে দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এমনকি অনেক সময় শিক্ষকের সঙ্গে বেয়াদবি, বেপরোয়া আচরণ বা সামাজিক মাধ্যমে অপমানের ঘটনাও সামনে আসে। কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষকরা নিজেরাও হয়তো দায় এড়াতে পারেন না। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দায়িত্বহীনতা কিংবা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্ক দুর্বল হয়েছে অনেক জায়গায়।

তবে এখনও অনেক ছাত্র-ছাত্রী আছে, যারা আজও শিক্ষকের পা ছুঁয়ে সালাম করে, দোয়া চায়, আদর্শ খোঁজে। এখনও অনেক শিক্ষক আছেন, যারা দিনরাত এক করে চেষ্টা করছেন ভবিষ্যৎ গড়তে। এই দুই পক্ষই আমাদের শেষ আশার বাতিঘর।

আজকের এই সময়ে ফিরে তাকালে মনে পড়ে—একসময় শিক্ষকরা ছিলেন অভিভাবকের মতো। আমরা তাঁদের চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝে নিতাম ঠিক-ভুল। এখন সেই জায়গাটা প্রযুক্তি, নম্বর আর ভোগবাদী দৌড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে।

আমাদের দরকার ফের সেই আত্মিক সংস্কৃতির—যেখানে শিক্ষক শুধু একজন চাকরিজীবী নন, বরং একজন ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ হিসেবে শ্রদ্ধার আসনে থাকবেন। আর শিক্ষার্থী কেবল পাসের যন্ত্র নয়, বরং আদর্শবান নাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে।

আসুন, আমরা আবার সেই প্রজন্ম হই—যারা শিক্ষক দেখলে উঠে দাঁড়াই, সালাম দিই, শ্রদ্ধা করি এবং তাঁদের কাছ থেকে শুধু শিক্ষা নয়, মানুষ হবার প্রেরণাও নিই।

মামুন হাচান
কো-অর্ডিনেটর
সাউথ এশিয়ান ক্রাইম ওয়াচ সোসাইটি (পর্যবেক্ষণ ও মানবাধিকার সংস্থা)

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park