
স্টাফ রিপোর্টার আজিজুর বিশ্বাস
নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার আদর্শপাড়ায় শতবর্ষী মা তহুরণ নেছার জীবন কাটছে ছেলের বাড়ির রান্নাঘরের এক কোণে। পাকা ও বহুকক্ষবিশিষ্ট বাড়িতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আরামে বসবাস করলেও বৃদ্ধা মা পড়ে আছেন একটি অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে ও নোংরা রান্নাঘরে।
তহুরণ নেছা উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের নোয়াগ্রামের মৃত আবদুল গফুর মুসল্লীর স্ত্রী। তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় ছেলে হেমায়েত হোসেন লোহাগড়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শপাড়ায় পাকা বাড়িতে বসবাস করেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রান্নাঘরের এক কোণে কাঠের একটি পুরোনো খাটে চট পেতে শুয়ে আছেন বৃদ্ধা। ঘরটিতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নেই। সেখানে থাকার উপযোগী পরিবেশ বা প্রয়োজনীয় সেবার কোনো ব্যবস্থা নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বৃদ্ধা তহুরণ নেছাকে এভাবেই রান্নাঘরের এক কোণে রাখা হয়েছে। অথচ বাড়ির অন্যান্য কক্ষে পরিবারের বাকি সদস্যরা স্বাভাবিকভাবে বসবাস করছেন।
এ বিষয়ে বড় ছেলে হেমায়েত হোসেন বলেন, “আমার মা মানসিক রোগী। বড় ঘরে রাখলে তিনি শৌচকার্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। তাই রান্নাঘরের এক কোণে রাখা হয়েছে। মাঝে মাঝে তিনি ছোট ভাইয়ের গ্রামের বাড়িতেও থাকেন।”
তবে স্থানীয়রা মনে করেন, মানসিকভাবে দুর্বল হলেও একজন শতবর্ষী বৃদ্ধার জন্য আলাদা ঘর, পরিচর্যা ও সম্মানের পরিবেশ নিশ্চিত করা সন্তানদের নৈতিক দায়িত্ব। এক প্রতিবেশী বলেন, “বাড়িতে যদি ঘরের অভাব না থাকে, তাহলে মা কেন রান্নাঘরে থাকবেন? এটা শুধু অবহেলা নয়, নির্দয়তাও।”