
নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াগাতী (কালিয়া), নড়াইল
নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী অঞ্চলে টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতে পহরডাঙ্গা, বাঐশোনা, কলাবাড়িয়া ও খাশিয়াল ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। এসব এলাকার নিম্নাঞ্চলে পানি জমে বসতঘর, উঠান ও রাস্তা ডুবে গেছে। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দিনমজুর, ভ্যানচালক ও কৃষক পরিবারগুলো।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভোরে বৃষ্টির শব্দে ঘুম ভাঙে, তারপর দিন কাটে পলিথিনে মাথা দিয়ে বসে। কাজ নেই, আয় নেই। অনেকের ঘরে রান্না সম্ভব হচ্ছে না, শুকনো স্থানের সংকটে ঘুমানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদিপশুর কষ্টও স্পষ্ট চোখে পড়ছে।

পহরডাঙ্গা গ্রামের নিজাম মোল্লা বলেন, “ঘরেও পানি, বাইরে কাজ নেই। পলিথিনের নিচে বসে দিন পার করি। এমন অবস্থা আগে কখনো হয়নি।”
কলাবাড়িয়ার কৃষক সামাদ শেখ বলেন, “ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে বাইরে যাওয়া যাচ্ছে না, মাঠে কাজও বন্ধ। একসঙ্গে এতদিন কাজ ছাড়া বসে থাকতে হয়নি।”
একই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন সহিদ সিকদার। তিনি বলেন, “প্রায় প্রতিটি ঘরে পানি ঢুকেছে। রান্নাঘর ডুবে আছে। বিছানার চেয়ে পানিই বেশি। গরুগুলো কোথায় রাখবো, সেটাই এখন চিন্তা।”
জলাবদ্ধতার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক গ্রামে কাঁচা রাস্তা ভেঙে গেছে। নড়াগাতীর ভেতর থেকে কেউ কেউ বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে এবং কোনোভাবে আয় করার আশায়।
পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মল্লিক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টিতে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে, আমি খোঁজ রাখছি। কার কী সমস্যা, সেটা স্থানীয় পর্যায়ে আমরা দেখছি। প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করব।”
অঞ্চলের একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, বছর বছর বর্ষা এলেই এমন জলাবদ্ধতার সমস্যা তৈরি হয়, কিন্তু তা মোকাবেলার মতো দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেই। ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল, খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নেমে যেতে পারে না।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু বর্ষার দুর্যোগ নয়—এটি স্থানীয় অবকাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলনও। আর তা সরাসরি প্রভাব ফেলছে নড়াগাতীর খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে।