1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কর্ম ও আদর্শে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন অধ্যক্ষ মোল্লা সাকায়েত হোসেন। নড়াইলে নবগঙ্গা সেতুর কাজ থমকে, দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ চরমে তেরখাদায় দুর্গাপূজা ঘিরে পুলিশের মতবিনিময় সভা, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা তেরখাদায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, সহনশীল দেশ গড়ার আহ্বান খুলনার জিরো পয়েন্টে বাসে তল্লাশি, ৬ কেজি ৫৯৭ গ্রাম আইস উদ্ধার সাজমীর হত্যা মামলায় এসআরবি-৬-এর অভিযানে দুই আসামি গ্রেপ্তার রূপসায় ইটভাটা ব্যবসায়ী ফখরুল হত্যা মামলার আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার বড়দিয়া বাজার রক্ষায় উদ্যোগ, ভাঙন প্রতিরোধে শুরু হচ্ছে জরুরি কার্যক্রম খুলনার একাধিক হত্যা মামলার আসামি ওসমান পাবনায় গ্রেপ্তার সুন্দরবনে জলদস্যুদের আস্তানায় অভিযান, ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার

ডুমুরিয়ায় কৃষি বিপ্লব: জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে কৃষকের জীবন

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ২০৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)

ডুমুরিয়া (খুলনা) ও আশপাশের কৃষি অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব কৃষিজীবী মানুষের জীবন ও উৎপাদনে নানাবিধ বাধা সৃষ্টি করেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাড়ছে লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা। দুর্বল পোল্ডার ও বেড়িবাঁধ ব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষ, জলোচ্ছ্বাস এবং উচ্চ জোয়ারের পানিতে কৃষিজমিতে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ে, ফলে চাষাবাদে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া মানসম্পন্ন কৃষি উপকরণের স্বল্পতা, শ্রমিক সংকট এবং শুষ্ক মৌসুমে অতিরিক্ত লবণাক্ততা অনেক জমিকে অনাবাদি করে ফেলেছে।

এই বাস্তবতায় খুলনা কৃষি অঞ্চলে বাস্তবায়ন করা হয়েছে “ক্লাইমেট-স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে খুলনা কৃষি অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন প্রকল্প”। প্রকল্পটি ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর তারিখে ৪৯.৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয় এবং ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে এর কার্যক্রম শুরু হয়। এটি খুলনা বিভাগের খুলনা, নড়াইল, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার মোট ২৮টি উপজেলা এবং ২টি মেট্রো অফিসে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩০ জুন ২০২৫।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের ফলে খুলনা অঞ্চলে রবি ও খরিপ মৌসুমে মোট চাষযোগ্য জমির প্রায় এক-চতুর্থাংশ পতিত পড়ে থাকে। এই সমস্যা সমাধানে রিলে ফসল, মিশ্র ফসল, আন্তঃফসল, পলি-মালচ, সর্জন ও ডিপ সেচ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকরা পতিত জমিকে আবাদে নিয়ে আসছেন। এতে কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

প্রকল্পটি দক্ষ পানি ব্যবস্থাপনা, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার, উন্নত যান্ত্রিকীকরণ, অভিযোজন সক্ষম ফসল উৎপাদন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাস্তবভিত্তিক কাজ করছে। কৃষকেরা স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত হয়ে প্রাথমিক উৎপাদন, বাজার বিশ্লেষণ ও আয় বাড়ানোর পদ্ধতি রপ্ত করেছেন। এতে তারা উৎপাদনে যেমন সফল, তেমনি খরচ সাশ্রয়েও উপকৃত হয়েছেন।

প্রকল্পের আওতায় ডুমুরিয়াসহ অনেক এলাকায় খনন করা হয়েছে মিনি পুকুর ও বরো পিট, যা এক ফসলি জমিকে দুই ফসলিতে রূপান্তর করেছে। জলাবদ্ধতা দূর করে জমির জো অবস্থা ফিরিয়ে আনা হয়েছে, ফলে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বেড়েছে। সূর্যমুখী এক্সপেলার মেশিন সরবরাহের মাধ্যমে এ অঞ্চলে সূর্যমুখীর আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোকোনাট ক্লাইম্বারের মাধ্যমে নারিকেল গাছে আরোহন ও পরিচর্যা সহজ হয়েছে।

ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বল্প পানির ফসল আবাদ, ঘেরের পাড়ে আগাম উচ্চমূল্যের ফসল চাষ, গ্রীষ্মকালীন সীম, টমেটো, অফ সিজন তরমুজ ও সূর্যমুখীর চাষাবাদ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। স্থানীয় ফসলের উন্নত জাত ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ ও ফলন বৃদ্ধিতে কৃষকেরা নতুন উদ্দীপনা পেয়েছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “বাণিজ্যিক কৃষির জন্য আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য এবং ক্লাইমেট-স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি এখন সময়ের দাবি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ডুমুরিয়ার অনেক কৃষক ক্লাইমেট-স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি মাঠে বাস্তবায়নের মাধ্যমে আধুনিক, টেকসই ও লাভজনক বাণিজ্যিক কৃষিতে সফল হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “এই প্রযুক্তিগুলো ডুমুরিয়ার প্রতিটি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।”

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park