1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নড়াইলের কালিয়ায় ১৮৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কালিয়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বর্ষ উদযাপন যশোরে অনলাইন বেটিংয়ে জড়িত ৮ জন গ্রেপ্তার মাস্টার প্যারেডে জেলা পুলিশের প্রস্তুতি পরিদর্শনে পুলিশ সুপার খুলনায় আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন নিয়ে আইনমন্ত্রীর মতবিনিময় সভা পহরডাঙ্গা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান কাবুল বিশ্বাস হারানো সরকারি অস্ত্রের খোঁজে র‍্যাব, তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পুরস্কার নড়াইলের চরেরঘাটে ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ জন গ্রেপ্তার শরণখোলায় নিখোঁজের তিন দিন পর স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার, আটক ৫ ‘ক্রসফায়ার’ নয়, আইনের পথেই সন্ত্রাস দমন: আইনমন্ত্রী

গোপালগঞ্জে স্কুলছাত্রকে গোপনাঙ্গে আঘাত ও চাকু দেখিয়ে হুমকি: দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫
  • ১৯৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

 

মো. শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রের গোপনাঙ্গে আঘাত ও চাকু দিয়ে কেটে ফেলার হুমকির অভিযোগে দুই সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এই ঘটনায় শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্য ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযুক্ত দুই শিক্ষিকা হলেন সদর উপজেলার ১০৪ নম্বর মাদ্রাসা-সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমাইয়া বিনতে হায়দার ও সারিনা খানম (বিভিন্ন সূত্রে নাম সাবরিনা খানম)। অভিযোগ উঠেছে, তারা ছাত্র তাওসিয়াদকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন এবং তাকে ভয় দেখিয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিশুর মা সুমি বেগম গত ২৬ মে ২০২৫ তারিখে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, তার ছেলেকে বিদ্যালয়ে আটকে রেখে গোপনাঙ্গে আঘাত করা হয় এবং চাকু দেখিয়ে শারীরিক ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগ পাওয়ার পর ইউএনও বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরদিন ২৭ মে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পলাশ সরদার স্কুল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেন। তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছা: জ্যোৎস্না খাতুন তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে “সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮”-এর ৩(খ) ধারায় অসদাচরণের অভিযোগ এনে ২৩ জুন কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন।

নোটিশে বলা হয়, কেন তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা লিখিতভাবে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে জানাতে হবে। ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে আগ্রহী কিনা তাও চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জবাব না দিলে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জানান, অভিযুক্ত দুই শিক্ষকই লিখিত জবাব দিয়েছেন। তবে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও শিক্ষিকা সুমাইয়া হায়দার ও সারিনা খানম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য দেননি।

এদিকে শিশু নির্যাতনের এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন মহল থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা হলেও মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন অভিভাবকরা দ্রুত বিচার ও অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছেন।

তারা বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয় শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হওয়া উচিত। এ ধরনের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাপ্ত তথ্য ও নীতিমালার আলোকে পরবর্তী বিভাগীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park