
নিজস্ব প্রতিবেদক, নড়াগাতী (কালিয়া), নড়াইল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নড়াইলের রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে। ২০২৫ সালের শুরুতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে—এমন আভাসে জেলা জুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। প্রতিটি দল নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে।
জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন উভয়েই নড়াইল-০১ ও ০২ আসনে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। জামায়াতের প্রার্থী নড়াইল-০১ আসনে মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কায়সার এবং ০২ আসনে মো. আতাউর রহমান বাচ্চু। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নড়াইল-০১ আসনে মাওলানা আব্দুল আজিজ এবং নড়াইল-০২ আসনে মাওলানা তাজুল ইসলামকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নড়াইল-০২ আসনে এনপিপির প্রার্থী হচ্ছেন দলের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।
বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো প্রার্থী ঘোষণা না করলেও দলটির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী ইতোমধ্যে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, ধর্মীয়-সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, লিফলেট বিতরণ, ব্যানার ও পোস্টার লাগানোর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। এতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠেছে।
নড়াইল-০১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন: বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, লে. কর্নেল (অব.) সাজ্জাদ হোসেন, জহিরুল ইসলাম জহির, আব্দুল লতিফ সম্রাট, ডা. শফিকুল হায়দার পারভেজ ও অধ্যাপক বি. এম. নাগিব হোসেন।
নড়াইল-০২ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন: মো. মনিরুল ইসলাম, মো. জুলফিকার আলী, অ্যাডভোকেট নেওয়াজ আহম্মদ ঠাকুর নজরুল, অশোক কুন্ডু, আলী হাসান, শাহরিয়ার রিজভী জর্জ, এম জাকারিয়া, মেজর (অব.) মঞ্জুরুল ইসলাম প্রিন্স ও প্রকৌশলী হিমায়েতুল ইসলাম হিমায়েত।
জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে, নড়াইল-০২ আসনে তাদের সংগঠিত ভোট ব্যাংক রয়েছে প্রায় দেড় লাখ এবং নড়াইল-০১ আসনে প্রায় ৭০ হাজার। ইতোমধ্যে তারা হাটবাজার সফর, কর্মীসভা এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কাঠামো গঠনের কাজ প্রায় শেষ করেছে। ইসলামী আন্দোলনের জেলা সেক্রেটারি এস. এম. নাসির উদ্দীন দাবি করেন, দুই আসনে দলটির নিশ্চিত ভোট সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০ হাজার। তাঁর ভাষায়, “সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ইসলামী আন্দোলন বড় ধরনের চমক দেখাতে পারে।”
জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ও সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আমরা রাজপথে ছিলাম। মামলা, হামলা, কারাবরণসহ নানা ত্যাগ করেছি। আমাদের ত্যাগের মূল্যায়ন হবে বলেই বিশ্বাস করি। এখন যারা হঠাৎ এসে মনোনয়ন চাইছে, তারা কখনও মাঠে ছিল না।”
নড়াইলের দুই আসনেই অতীতে বিএনপি ও তাদের জোট একাধিকবার জয় পেয়েছে। ১৯৭৯, ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি) এবং ২০০১ সালে উভয় আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন। ফলে ঐতিহাসিকভাবে এই আসন দুটি বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই বিবেচিত।
বর্তমানে মাঠে সবচেয়ে সক্রিয় দলগুলো হলো বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। অপরদিকে ইসলামপন্থী দলগুলোর শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ও তৃণমূল পর্যায়ে উপস্থিতি এবারের নির্বাচনের ফলাফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।