
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল এলাকায় প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী সোহাগ (৩৯) হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের দুই নেতাকে আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বহিষ্কৃতরা হলেন—যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক রজ্জব আলী পিন্টু এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবাহ করিম লাকি। সোহাগের পরিবারের দায়ের করা মামলায় তাদের নাম রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ৯ জুলাই সন্ধ্যায় মিটফোর্ড হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে প্রকাশ্যে সোহাগ নামে এক ভাঙাড়ি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযুক্ত দুই নেতার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ যুবদলের সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে দলীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েন মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন অনুমোদন দিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, “বহিষ্কৃতদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব যুবদল বহন করবে না। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সে আহ্বান জানাচ্ছে যুবদল। একইসঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হলো।”
এদিকে, ঘটনার নৃশংসতা ও অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসায় বিএনপির উচ্চ পর্যায় থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে বলেন, “এ ধরনের জঘন্য ঘটনায় জড়িতদের আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেন তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে।”
মামলাটি বর্তমানে কোতোয়ালি থানায় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং কয়েকজন অভিযুক্ত ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।