
হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমাবদ্ধকরণের নির্বাহী আদেশ কার্যকর হওয়া থেকে দেশের সর্বত্র স্থগিত করা হয়েছে। নিউ হ্যাম্পশায়ারের কনকর্ডে অবস্থিত ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক জোসেফ লাপ্লান্ত আদেশটির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া শ্রেণিভিত্তিক মামলার প্রেক্ষিতে এই স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।
বিচারক লাপ্লান্ত বলেন, “আদেশ কার্যকর হলে লাখ লাখ শিশুকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হতে হবে, যা একটি অপূরণীয় ক্ষতি।” তবে তিনি সরকারের আপিলের সুযোগ রাখতে সাত দিন স্থগিতাদেশ বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে লিখিত রায় প্রদান করবেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ২৭ জুলাই থেকে ট্রাম্পের আদেশ কার্যকর করার পরিকল্পনা করলেও ২৭ জুন আদালতের কনজারভেটিভ সংখ্যাগরিষ্ঠতা শ্রেণি মামলার মাধ্যমে বিচার চলার সুযোগ রেখেছিল। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU) ও অন্যান্য সংস্থা দ্রুত শ্রেণি মামলা করে, যার একটি মামলা ছিল বিচারক লাপ্লান্তের আদালতে।
২০১৯ সালের ‘যুক্তরাষ্ট্র বনাম ওং কিম আর্ক’ মামলার রায় উদ্ধৃত করে বিচারক বলেন, “জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব শিশুর পিতামাতার অভিবাসন স্থিতির ওপর নির্ভর করে না।” ট্রাম্পের আদেশ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর অন্তত একজন পিতামাতা যদি নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী না হন, তবে শিশুর নাগরিকত্ব বাতিল হবে। আদেশ কার্যকর হলে বছরে প্রায় দেড় লাখ নবজাতক নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিয়েছে, শ্রেণি মামলা প্রযোজ্য নয় কারণ মামলাকারীদের অভিবাসন অবস্থা ভিন্ন। তবে বিচারক লাপ্লান্ত বলেছেন, জাতীয় নীতিনির্ধারণের দায়িত্ব বিচারকদের নয়, সুপ্রিম কোর্ট শ্রেণি মামলার কার্যকারিতা স্বীকার করেছে। এই স্থগিতাদেশের ফলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিশ্চিত রাখার পথে অগ্রগতি হয়েছে।