
রিপোর্টার: সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কোলকাতা
পুনর্বহালের দাবিতে যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা সোমবার দুপুর ১২টা থেকে কলকাতার হাওড়া ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে জমায়েত হন। তারা নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্য সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করে তাদের তালিকা প্রকাশ ও পুনর্বহালের দাবি জানান।
চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মীদের নিয়ে গঠিত ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ (SLST ২০১৬)’ সদস্যরা নবান্ন অভিযানে অংশ নেন। যৌথ মঞ্চের ভাস্কর ঘোষ, ইন্দ্রজিৎ মন্ডল, অনিরুদ্ধ ভট্টাচার্যসহ চিন্ময় মন্ডল, মেহেবুব মন্ডল, সুমন বিশ্বাস, মৃন্ময় মন্ডল, সঙ্গীতা সাহা, হুমায়ুন ফিরোজ, বৃন্দাবন ঘোষ প্রমুখ মিছিলে ছিলেন।
আন্দোলনকারীরা বঙ্কিম সেতু, হাওড়া ময়দান, জিটি রোড, শিবপুর, কাজীপাড়া, ফোরশোর রোড, মন্দিরতলা, নবান্ন বাস টার্মিনাস হয়ে নবান্ন পর্যন্ত রুট নির্ধারণ করেন। তারা জানান, শান্তিপূর্ণভাবেই নবান্ন অভিযানে যাবেন এবং মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্য সচিবের সঙ্গে দেখা না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন।
মিছিল শুরু হতেই বঙ্কিম সেতু এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেয়। শিক্ষক-শিক্ষিকারা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে গেলে জিটি রোডে মল্লিক ফটকের কাছে দ্বিতীয় ব্যারিকেডে ধস্তাধস্তি হয়। তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্য সচিবের সঙ্গে দেখা না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
পুলিশি বাধার পর ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুখ্য সচিবের সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকের পর ফিরে আসা প্রতিনিধিরা জানান, এখনো কোনও নিশ্চিত ফলাফল আসেনি। আন্দোলনকারীরা রাত ১২টার মধ্যে তালিকা প্রকাশ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অবশ্য শিক্ষকেরা গলায় ফাঁসির দড়ি দিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদও করেন এবং বলেন, “আমরা শেষ হয়ে গেছি, বাকিটা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নিজেদের অধিকার আদায় করব।”
যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা দাবি করেন, ২২ লাখ এমআরসি তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং পুনর্বহালের জন্য তালিকা পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। তারা পুনরায় পরীক্ষা দিতে চান না।
তারা অভিযোগ করেন, অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজদের বাঁচাতে পুলিশ ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু তাঁরা ধৈর্য হারাবেন না। হাজারো পুলিশ নিয়েও তাঁদের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।