1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নড়াইলের কালিয়ায় ১৮৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কালিয়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বর্ষ উদযাপন যশোরে অনলাইন বেটিংয়ে জড়িত ৮ জন গ্রেপ্তার মাস্টার প্যারেডে জেলা পুলিশের প্রস্তুতি পরিদর্শনে পুলিশ সুপার খুলনায় আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন নিয়ে আইনমন্ত্রীর মতবিনিময় সভা পহরডাঙ্গা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান কাবুল বিশ্বাস হারানো সরকারি অস্ত্রের খোঁজে র‍্যাব, তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পুরস্কার নড়াইলের চরেরঘাটে ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ জন গ্রেপ্তার শরণখোলায় নিখোঁজের তিন দিন পর স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার, আটক ৫ ‘ক্রসফায়ার’ নয়, আইনের পথেই সন্ত্রাস দমন: আইনমন্ত্রী

নড়াইলে শতবর্ষী ঈদগাহ ও কবরস্থান মধুমতির গর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কা

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৪১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী, নড়াইল:

নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানাধীন সরসপুর ও পহরডাঙ্গা—এই দুই প্রাচীন জনপদের শত বছরের পুরনো ঈদগাহ মাঠ ও কবরস্থান আজ মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙনের মুখে। দুই গ্রামের মুসল্লিরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এখানেই ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন, এখনও ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জামাত এখানে হয়; কিন্তু ভাঙনে জমি সঙ্কুচিত হয়ে পড়ায় বড় জামাত আয়োজন ক্রমেই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারত করতেও মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে যেতে হচ্ছে, অনেক পুরনো কবর ইতোমধ্যে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি বহুদিন ধরে আলোচিত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবি) এখনো কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি—ফলে জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

ঈদগাহ ও কবরস্থান দুটি মধুমতির উত্তর পাড়ে অবস্থিত এবং দক্ষিণ পাশ ঘেঁষে গেছে চাপাইল-কালিয়া প্রধান সড়ক। নদীভাঙনের তীব্রতায় ঈদগাহ মাঠের একাংশ বিলীন হয়ে গেছে; কবরস্থানও মারাত্মক ঝুঁকিতে। স্থানীয়রা বলেন, সরসপুর ও পহরডাঙ্গার মানুষ একসঙ্গেই ঈদের জামাতে অংশ নেন—ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনো চেষ্টা চলছে, কিন্তু ভাঙনের ফলে জায়গা প্রতিনিয়ত কমছে।

ঈদগাহ ও কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিকদার আহসান আলী (লাবু) বলেন, “আমরা নিজেরা গাছ লাগিয়ে, বাঁশ-খুঁটি দিয়ে কিছুটা তীররক্ষা করার চেষ্টা করেছি। সাময়িক কাজে এলেও বড় ভাঙন থামানো যাচ্ছে না। আমাদের ঈদের মাঠ, পূর্বপুরুষদের কবর—সবই ঝুঁকিতে।”

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মল্লিক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। খুব দ্রুতই পানি উন্নয়ন বোর্ড নড়াইল কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করা হবে। প্রয়োজনে এলাকাবাসীকে নিয়ে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি দেওয়া হবে যাতে বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে যায়।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড বহু বছর ধরেই এ অংশে ভাঙনের বিষয়ে অবগত; তবু কোনো টেকসই প্রকল্প নেয়নি। ধর্মীয়, সামাজিক ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানের অস্তিত্ব বিপন্ন হলেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে মধুমতির ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ও ব্লক বসিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে, ঈদগাহ ও কবরস্থান রক্ষায় বিশেষ সরকারি বরাদ্দ দিতে হবে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

প্রাচীন এই ঈদগাহ ও কবরস্থানের ক্ষয় শুধু ধর্মীয় স্থাপনার ক্ষতি নয়—এটি এক প্রজন্মের স্মৃতি, ইতিহাস ও পরিচয়ের অংশ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই এই জনপদের মানুষ তাদের ঈদের ময়দান ও পূর্বপুরুষদের কবর কেবল মানচিত্রে বা স্মৃতিচারণে খুঁজে ফিরবে।

এমতাবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ড নড়াইল ও কালিয়া কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান—তারা যেন অবিলম্বে সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park