
মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী
নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি থানাধীন বিভিন্ন ইউনিয়নে যত্রতত্র পাট পচানোর ফলে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে। নদী, ডোবা, খাল-বিল, পুকুর এবং কৃষিজমিতে বেপরোয়া পাট পচানোর কারণে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে দুর্গন্ধে, পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যেও নেমে এসেছে হুমকি।
বাঐশোনা, খাশিয়াল, মাওলী, কলাবাড়ীয়া, পহরডাঙ্গা ও জয়নগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা নিয়মবহির্ভূতভাবে স্থানীয় জলাশয়ে পাট ফেলছেন। এতে আশপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে পঁচা গন্ধ, বৃদ্ধি পাচ্ছে মশার উপদ্রব এবং বাড়ছে ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি। আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা। অনেকেই ইতোমধ্যে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, চর্মরোগ ও এলার্জিতে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বিশেষ করে পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের কয়েকটি খালের অবস্থা ভয়াবহ। আগে এই খালের পানি গোসলসহ গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খালের পানি থেকে নির্গত হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা স্থানীয় স্বাস্থ্যসচেতনদের মতে জীবাণুবাহী রোগের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। মাছের প্রজননেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব—নষ্ট হচ্ছে পানির ভারসাম্য এবং হুমকিতে পড়ছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমানে পাট পচানোর আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি যেমন পলিথিন পদ্ধতি, রিবোন রেটিং, জুট টেক ইত্যাদি সম্পর্কে কৃষকদের যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। ফলে তারা প্রচলিত, কিন্তু পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পদ্ধতি বেছে নিচ্ছেন।”
তাদের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিকভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো, ইউনিয়ন পর্যায়ে পাট পচানোর জন্য নির্ধারিত স্থান নির্ধারণ এবং আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। অন্যথায় স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।