
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা:
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রানাই গ্রামে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) সরাসরি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সরকারি রাস্তার পাশে থাকা বহু মূল্যবান গাছ কেটে নিয়েছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওমর আলী শেখ, যিনি এলাকায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী পরিবারের জামাতা হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে কাঠুরিয়াদের দিয়ে ১৫-১৬টি কাঠ কেটে ফেলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৩ জুলাই) সকালে ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া ইউনিয়নের রানাই গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই ওমর আলী শেখের নেতৃত্বে সরকারি রাস্তার পাশে থাকা গাছ কাটা শুরু হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব গাছের বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা।
২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ভোররাতেও একইভাবে তিনি গাছ কাটার চেষ্টা করেন। সে সময় ইউএনও’র নির্দেশে গাছ কেটে নেওয়া বন্ধ হয় এবং সরকারি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে মাপজোখ করে গাছ জব্দ করে রাখা হয়। এরপর দীর্ঘদিন গাছ কাটায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আবারও গাছ কাটেন ওমর আলী।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল-আমিন অবিলম্বে খর্ণিয়া ইউনিয়নের শোভনা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি উপস্থিত হয়ে গাছ কাটা বন্ধ করেন এবং কাটা গাছ জব্দ করে হেফাজতে রাখেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তার চলে যাওয়ার পর আবারও গোপনে গাছ কাটা হয়।
এ বিষয়ে ওমর আলী শেখ বলেন, “গাছগুলো আমি লাগিয়েছিলাম, বুঝতে পারিনি সরকারি জায়গায় রোপণ করা গেলেও কাটা যায় না।”
তবে এলাকাবাসীর দাবি, বিগত কয়েক বছরে ওমর আলী একাধিকবার রাস্তার পাশে লাগানো মেহগনি, সিরিসসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলেছেন। এতে করে একসময়ের সবুজ ছায়াঘেরা রাস্তাটি এখন হয়ে উঠেছে উজাড় ও রোদে পোড়া জনপথ।
ইউএনও মুহাম্মদ আল-আমিন বলেন, “সরকারি রাস্তার গাছ কাটার খবর পেয়েই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলার সহকারী ভূমি কর্মকর্তা এস.এম. মনিরুজ্জামান বলেন, “ইউএনও স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে দিই এবং জব্দকৃত গাছ হেফাজতে নিই। কিন্তু পরে আবারও গাছ কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রানাই এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি — যাদের মধ্যে তিনজনের নাম উঠে এসেছে — গাছ কাটায় সরাসরি জড়িত। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরেই বনবিভাগ ও সামাজিক বন কর্মীদের চোখের সামনে এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে, কীভাবে ইউএনও ও ভুমি কর্মকর্তার স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাছ কাটা চলতে পারে। তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।