
শিহাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কর্মসূচি চলাকালীন গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। তিনটি থানায় দায়ের করা দশটি মামলায় মোট ৯ হাজার ৮৪৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রায় ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে স্কুলশিক্ষক, প্রতিবন্ধী ও দিনমজুর রয়েছেন।
নিহত এনসিপি কর্মী হারুনের পরিবার অভিযোগ করেছে, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সেনাবাহিনী তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। হারুনের মা জানায়, “হারুন কোনো অপবাদ ছাড়াই বাড়ি থেকে বের হয়েছিল; মিনিট দশেকের মধ্যে গুলির শব্দ শুনেছি।” আরেক নিহত দিনমজুর মোটরসাইকেলে বাজারে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন বলে পরিবার সদস্যদের দাবি।
এনসিপি নেতারা ঘটনাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেছেন, পরিকল্পিতভাবে দমন-পীড়ন চালাতে সেনা-প্রশাসন যৌথ অভিযান চালিয়েছে এবং নিরীহ মানুষদেরও মামলায় আসামি করা হয়েছে। দলটি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, “এই মামলায় রাজনৈতিক কর্মী ছাড়াও কৃষক, স্বাস্থ্যকর্মী, ল্যাব সহকারী এবং ৭৫ বছর বয়সী প্রতিবন্ধীকেও আসামি করা হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, “সেনাবাহিনীর ওপর হামলা, সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মামলাগুলো দায়ের হয়েছে। ভিডিও, ছবি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের শনাক্ত করা হচ্ছে। তবে সব আসামি অপরাধী নয়; তদন্তে নিরপরাধরা বাদ দেওয়া হবে।”
মামলার তালিকায় রয়েছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব টেকনিশিয়ান, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত এক মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার, এমনকি এক মৃত ব্যক্তির নামও। ল্যাব সহকারী এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, “ঘটনার দিন অফিসে নিয়মিত কর্মরত ছিলাম; তবুও নাম আসামি তালিকায় রয়েছে।”
এক মামলায় গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে হামলার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ মামলাতেও হাজারো আসামি রয়েছে, তবে পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেক পুরুষ বাড়ি ছেড়ে গেছেন। এনসিপি বলেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশই গরিব ও শ্রমজীবী।
দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। দলটির মহাসচিব জানিয়েছেন, “গণগ্রেপ্তার ও গণহত্যার বিচার না হলে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি তুলে ধরবো।”