
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)
খুলনার ডুমুরিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে বাতাবি লেবুর চাষ দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনুকূল জলবায়ু, ফলন ভালো হওয়া এবং বাজারে চাহিদা থাকার কারণে এখানকার কৃষকরা লেবু চাষে ঝুঁকছেন। এতে যেমন পুষ্টি চাহিদা পূরণ হচ্ছে, তেমনি কৃষকেরাও লাভবান হচ্ছেন।
বাতাবি লেবু ভিটামিন ‘সি’-এর অন্যতম উৎকৃষ্ট উৎস। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দৈনিক গড়ে ৫০ গ্রাম বাতাবি লেবু খেলে তার দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘সি’-এর চাহিদা পূরণ হয়। এটি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ, দাঁত, মাড়ি ও পেশিকে মজবুত করে এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি বাতাবি লেবুর গাছ ছাতার মতো আকৃতির এবং পাতা ঘন গাঢ় সবুজ। সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে গাছে ফুল আসে এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রতিটি গাছে গড়ে ৫০-৫৫টি ফল ধরে। প্রতিটি ফলের ওজন ৮৫০ থেকে ১১০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। শাঁস সাদা, রসালো, সুস্বাদু, মিষ্টি এবং সম্পূর্ণ তিতাবিহীন।
ডুমুরিয়ার হালকা দোআঁশ ও পলি দোআঁশ মাটি বাতাবি লেবুর জন্য বিশেষ উপযোগী। জলাবদ্ধতা সহ্য না করায় এ অঞ্চলের উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে চাষ বেশ ফলপ্রসূ হচ্ছে। জুন-সেপ্টেম্বর মাসে চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। প্রতি গর্তে ১০-১৫ কেজি জৈব সার এবং পরিমিত টিএসপি ও এমপি প্রয়োগে ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চাষিদের মতে, সঠিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা, সেচ ও আগাছা দমন নিশ্চিত করা গেলে প্রতি গাছে বছরে গড়ে ৪০-৫০টি উন্নত মানের ফল পাওয়া যায়, যা বাজারে বিক্রি করে ভালো লাভ তোলা সম্ভব।
স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডুমুরিয়ার আবহাওয়া ও মাটি লেবু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বীজ ও সার সহায়তা দিলে এই অঞ্চলে লেবু চাষ একটি লাভজনক বাণিজ্যিক খাতে পরিণত হতে পারে।