
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনা প্রেসক্লাবে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট ২০২৫) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতি (বিসিডিএস) খুলনা জেলা শাখার নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি নিজেদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অপপ্রচার ও মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক খান মাহাতাব আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের ৬৩ জেলায় ফার্মেসি কাউন্সিলের কোর্স চালু থাকলেও খুলনায় প্রায় দেড় বছর ধরে কোর্স বন্ধ রয়েছে। এতে প্রকৃত ওষুধ ব্যবসায়ীরা নানা প্রতিকূল অবস্থায় পড়েছেন, নতুন লাইসেন্সপ্রত্যাশীরাও ভোগান্তিতে আছেন। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় কমিটি ৯ আগস্ট সমিতির আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করে, যাতে জেলা পর্যায়ের সাধারণ কেমিস্টদের স্বার্থরক্ষার পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত মূল্যে ওষুধ বিক্রয় (এমআরপি) বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
খান মাহাতাব আহমেদ বলেন, “যখন নবগঠিত কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই ১৬ আগস্ট খুলনা প্রেসক্লাবে কয়েকজন ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলন করে কমিটি ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন। এটি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার।”
তিনি উল্লেখ করেন, ওই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এস এম আজিজুর রহমান, যিনি অতীতে তার সঙ্গেই একই কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। “২০১২-১৩ সালে আমি সভাপতি আর তিনি ছিলেন অবৈতনিক সম্পাদক। অথচ আজ তিনি আমাকে অব্যবসায়ী বলছেন। বাস্তবে আমি মেসার্স কেয়া ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী, বিসমিল্লাহ মার্কেটের আংশিক মালিক এবং দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী। কেবল পজিশনধারী দোকানদার হয়ে অন্যের ব্যবসার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অনভিপ্রেত,” বলেন মাহাতাব আহমেদ।
তিনি অভিযোগ করেন, আজিজুর রহমান ব্যক্তিগত পদলাভের আশায় কেন্দ্রীয় কমিটির ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। অথচ কেন্দ্রীয় কমিটি তার প্রস্তাবিত তালিকা থেকেও কয়েকজনকে নতুন কমিটিতে স্থান দিয়েছে। তবুও তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, বিসিডিএস একটি সরকার স্বীকৃত জাতীয় সংগঠন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত। কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত ব্যতীত কোনো জেলা কমিটি বৈধ নয়। কাজেই যারা সম্প্রতি বিভ্রান্তিকর সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তারা সংগঠনের ঐক্য নষ্ট করতে চাচ্ছেন।
এ সময় খুলনার বিভিন্ন উপজেলা ও থানা থেকে আগত কেমিস্টরা উপস্থিত থেকে নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। সম্মেলনের শেষে নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—জেলায় এমআরপি বাস্তবায়নে প্রচারণা চালানো, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফেরতের বিষয়ে কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা, মোবাইল কোর্টের নামে হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক, দ্রুত ফার্মেসি কাউন্সিলের কোর্স চালুর দাবি, ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজন।
খান মাহাতাব আহমেদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, “আমাদের উপর যে গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তার যথাযথ বাস্তবায়নে সাংবাদিক সমাজসহ সবার সহযোগিতা চাই।”