
চৌধুরী জুয়েল রানা, স্টাফ রিপোর্টার
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নড়াইল-১ (কালিয়া উপজেলা ও সদর উপজেলার আংশিক) আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বিএনপি ও জিয়া পরিষদের নেতা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক বি এম নাগিব হোসেন। তিনি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি থানার দক্ষিণ যোগানিয়া গ্রামের সন্তান।
অধ্যাপক বি এম নাগিব হোসেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রয়াত সদস্য, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকস এমপ্লয়িজ ফেডারেশন ও সোনালী ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বি এম বাকির হোসেনের ছোট ভাই।
তিনি বলেন, অবহেলিত নড়াগাতি থানাকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় উন্নীত করা, কালিয়ার বারইপাড়া ঘাটে ধীরগতির সেতু নির্মাণকাজ দ্রুত সমাপ্ত করা, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে যুবকদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, অবকাঠামো ও বিদ্যুৎব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আধুনিকীকরণ এবং প্রয়াত শ্রমিক নেতা বি এম বাকির হোসেনের অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়নই হবে তার অঙ্গীকার।
অধ্যাপক নাগিব হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের পাশে থেকেছেন। তৃণমূলে জনসমর্থনের ভিত্তিতেই তিনি বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে তিনি নড়াইল ও ঢাকায় ধারাবাহিক গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ এবং সভা-সমাবেশে সক্রিয় রয়েছেন। এ লক্ষ্যে তিনি স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন।
বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তাঁর হয়েই তারা কাজ করবেন। তবে স্থানীয়ভাবে অনেকে মনে করেন, অধ্যাপক বি এম নাগিব হোসেন একজন শিক্ষিত, সৎ, কর্তব্যপরায়ণ ও জনবান্ধব ব্যক্তি। তাঁর দূরদর্শী রাজনীতি, সহজ-সরল আচরণ এবং দায়িত্ববোধ ইতোমধ্যেই এলাকাবাসীর কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে।
দক্ষিণ যোগানিয়া গ্রামের সন্তান অধ্যাপক বি এম নাগিব হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স) ও এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৬ সালে ৮ম ব্যাচের বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার) উত্তীর্ণ হয়ে প্রভাষক হিসেবে সরকারি কলেজে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৭৯ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ছাত্রদলে যোগদানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি আবাসিক হল ও ২টি ছাত্রী হলে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একইসঙ্গে তিনি ছাত্রাবস্থায় এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও সরব ভূমিকা পালন করেন।
শিক্ষকতা জীবনে নেপথ্যে থেকে তিনি ঢাকা কলেজ, গাজীপুর ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ ও জগন্নাথ কলেজে (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়) ছাত্রদলকে সংগঠিত করতে নিরলস সহযোগিতা করেছেন।