
মনির খান, স্টাফ রিপোর্টার
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের আড়িয়ারা গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে জাপান খার স্ত্রী জেসমিন বেগমকে বেধড়ক মারপিট করে মহিলারা—এর ফলে তাঁর তিন মাসের ভ্রণ নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে অভিযোগ করা হয়েছে একই বংশের ওমর খার স্ত্রী সলোকা বেগম ও সজিবের স্ত্রী বিথী বেগমের নাম। অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, জাপান খাকেও মারধর করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বিকেলে, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫। এক পর্যায়ে জেসমিন বেগম আহত হয়ে পরে এবং ঘটনার পরই তার শরীরে রক্তপাত শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় একজন গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে ওই চিকিৎসক কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা না করে রোগীকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা রুগীর অবস্থা গুরুতর বিবেচনা করে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১:৩০ মিনিটে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আহত জেসমিন বেগমের স্বামী জাপান খা জানিয়েছেন, ঘটনার একদিন পর থেকেই তার স্ত্রীর রক্তপাত শুরু হয় এবং কয়েক দিন উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, “আগে আমার স্ত্রী সুস্থ হোক — পরবর্তীতে যারা আমার স্ত্রীর গর্ভের সন্তান নষ্ট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দেবো। আমি সংঘাত চাই না, আমি ন্যায্য ও সুস্থ বিচার চাই।”
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ তাণ্ডব ঘটে এবং অভিযুক্তদের গ্রামেও তাদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি ছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ঘটনার ফলে শুধু শারীরিক আঘাত নয়, জেসমিন বেগম ও তার পরিবারের মানসিক ও সামাজিক ক্ষতিও সাধিত হয়েছে।
এ বিষয়ে থানায় কোনো প্রার্থী অভিযোগ দায়ের বা প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিয়েছে—এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং আহত মহিলার সুষ্ঠু চিকিৎসা ও সুরক্ষা রক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
স্থানীয় নেতারা ও সমাজসেবীরা ঘটনাটিকে নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন এবং শান্তি ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের তৎপরতা কামনা করেছেন।