
খন্দকার ছদরুজ্জামান, নড়াইল
আজ (১০ অক্টোবর) বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী। এই উপলক্ষে এস এম সুলতান ফাউন্ডেশন ও নড়াইলের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সকাল থেকেই চিত্রশিল্পীর আত্মার মাগফেরাত কামনায় কোরআনখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শিশুদের জন্য আর্ট ক্যাম্প, চিত্রকর্ম প্রদর্শনী, পুরস্কার বিতরণ ও শিল্পীর জীবন ও শিল্পভাষা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। নড়াইল জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এসব কর্মসূচি দিনব্যাপী চলে।
বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইল শহরের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রাজমিস্ত্রি পিতা মেছের আলীর নান্দনিক পরিবেশে ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে চিত্রাঙ্কনের প্রতিভা বিকশিত হয়। লাল মিঞা হিসেবে পরিচিত সুলতান নিজের শিল্পে বাংলার কৃষক, জেলে, তাঁতি, কামার, কুমার, মাঠ, নদী, হাওর, বাঁওড় ও জঙ্গলের চিত্রায়ন করে গেছেন।
শিল্পী সুলতান যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তানসহ নানা দেশে সফর করেন। এসব দেশে তার চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয় ও প্রশংসিত হয়। ১৯৫৫-৫৬ সালে দেশে ফিরে তিনি জন্মস্থান নড়াইলের মাছিমদিয়ায় ফাইন আর্ট স্কুল ও ‘শিশুস্বর্গ’ নামে একটি শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুদের প্রতি গভীর মায়া ও শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৮০ সালে নিজের বাড়িতে ‘শিশু স্বর্গ’-এর নির্মাণকাজ শুরু করেন।
১৯৯২ সালে শিল্পী সুলতান নিজ উদ্যোগে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের ‘ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গ’ নামে একটি দ্বিতল নৌকা নির্মাণ করেন। এই নৌকায় শিশুদের নিয়ে চিত্রানন্দে ভ্রমণ ও শিক্ষাদান চালিয়ে যাওয়া তার শিল্পচেতনাকে আরও প্রকাশ করে। নড়াইলের সাংস্কৃতিক মহলে এস এম সুলতানের অবদান চিরস্মরণীয়। তাঁর জীবন ও শিল্পকর্ম আজও বাংলাদেশের শিল্পজগত ও সমাজকে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।